পাঁচ বছর পর Jeep Compass কেমন? খরচ বেশি, তবু কেন পছন্দ মালিকের
গুরুগাঁও: পাঁচ বছর ধরে গ্যারেজে থাকা একটি গাড়িকে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করলে ছবিটা অনেকটাই আলাদা হয়ে যায়। Jeep Compass-এর ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে। কেনার সময় Tata, Hyundai, Kia, Mahindra এবং MG-এর মতো ব্র্যান্ডের SUV-এর তুলনায় Compass নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা ছিল। কিন্তু পাঁচ বছর ব্যবহারের পর মালিকের দাবি, নানা সমস্যা এবং বেশি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত ভুল ছিল না।
Compass কেনার আগে MG Hector এবং Hyundai Creta-ও বিবেচনায় ছিল। তবে Jeep-এর অফ-রোড সক্ষমতা এবং চালানোর অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।
রাস্তায় এবং অফ-রোডে Compass-এর আলাদা চরিত্র
Jeep-এর অন্যতম বড় শক্তি তার অফ-রোড চরিত্র। পাঞ্জাবের রাস্তা এবং সবুজে ঘেরা গ্রামীণ পথে নিয়মিত গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতায় Compass-এর সক্ষমতা আলাদা করে নজরে পড়েছে।
কাদায় গাড়ি চালানো হোক বা অসমান রাস্তায় চলা, Compass-এর চালানোর অভিজ্ঞতা চালককে আনন্দ দেয়। গাড়িটির প্রতি সতর্কতা বজায় রেখেও অফ-রোড পরিস্থিতিতে এর ক্ষমতা ব্যবহার করার সুযোগ মালিককে বারবার আকৃষ্ট করেছে।
তবে মালিকের অভিজ্ঞতায় Jeep মালিকানার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল আফটার-সেলস পরিষেবা। বিভিন্ন সময়ে উপযুক্ত সার্ভিস সেন্টার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়েছে। শুধু সার্ভিস সেন্টার পাওয়া নয়, দক্ষ এবং সন্তোষজনক পরিষেবা দেওয়ার মতো কেন্দ্র খুঁজে পাওয়াও সমস্যার ছিল।
২০২১-এর Compass-এ শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন
২০২১ সালের Jeep Compass-এ রয়েছে ২.০ লিটারের টার্বো-ডিজেল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে ছয়-গতির ম্যানুয়াল অথবা নয়-গতির স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স পাওয়া যায়। স্বয়ংক্রিয় সংস্করণে অল-হুইল ড্রাইভ বা AWD ব্যবস্থা রয়েছে।
ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১৭০ বিএইচপি শক্তি এবং ৩৫০ এনএম টর্ক তৈরি করে। অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিলেই গাড়িটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় এবং চালককে শক্তিশালী টান অনুভব করায়।
২,৫০০ আরপিএমের নিচে গাড়িটির অ্যাক্সিলারেশন তুলনামূলকভাবে লিনিয়ার। তবে পুরো রেঞ্জেই ইঞ্জিন যথেষ্ট সাড়া দেয়। কাগজে-কলমে ইঞ্জিনটি হয়তো সেগমেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী নয়, কিন্তু বাস্তব ব্যবহারে শক্তির অভাব অনুভূত হয় না।
ডিজাইনে এখনও নজর কাড়ে Compass
Jeep Compass-এর ডিজাইন পাঁচ বছর পরেও তার অন্যতম বড় আকর্ষণ। গাড়িটির অনুপাত, উঁচু অবস্থান এবং সামগ্রিক গঠন রাস্তায় আলাদা উপস্থিতি তৈরি করে।
সামনে রয়েছে Jeep-এর পরিচিত সাত-স্লট গ্রিল এবং LED হেডল্যাম্প। ভাস্কর্যের মতো গড়ন দেওয়া বোনেট, চওড়া স্ট্যান্স, স্কোয়ার্ড-অফ হুইল আর্চ এবং স্পষ্ট শোল্ডার লাইন গাড়িটিকে শক্তিশালী SUV-এর চরিত্র দিয়েছে।
পেছনে সরু LED টেল ল্যাম্প, গড়নযুক্ত টেলগেট এবং বড় বাম্পার ডিজাইনটিকে আরও মজবুত চেহারা দিয়েছে। অ্যালয় হুইল গাড়িটির প্রিমিয়াম ভাবও বাড়িয়েছে।
কেবিনে প্রযুক্তির সঙ্গে ফিজিক্যাল বোতাম
Compass-এ রয়েছে ১০.১ ইঞ্চির ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এতে ওয়্যারলেস Apple CarPlay এবং Android Auto-এর সুবিধা রয়েছে।
তবে মালিকের সবচেয়ে পছন্দের বিষয়গুলির একটি হল কেবিনে পর্যাপ্ত ফিজিক্যাল বোতাম থাকা। বর্তমানে অনেক গাড়ি যেখানে প্রায় সব নিয়ন্ত্রণ টাচস্ক্রিনের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে, Compass সেখানে প্রচলিত বোতাম এবং সুইচের ব্যবহার ধরে রেখেছে।
কেবিনের জায়গাও যথেষ্ট ভালো। আকারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কিছুটা ছোট হলেও পিছনের আসনে লেগরুম, হেডরুম এবং থাই সাপোর্ট মোটামুটি ভালো। সপ্তাহান্তে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য জায়গার অভাব হয় না। বুট স্পেসও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।
সামনের দিকে ছোটখাটো জিনিস রাখার জায়গা, আর্মরেস্ট এবং ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ব্যবস্থাও ব্যবহারিক। পাঁচ বছর পরেও কেবিনের প্লাস্টিক এবং সফট-টাচ উপকরণ প্রিমিয়াম অনুভূতি ধরে রেখেছে।
কোথায় সমস্যা?
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে Compass-এর কিছু দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। মালিকের মতে, সিটের একটি প্যানেল এখনও পর্যন্ত তিনবার বদলাতে হয়েছে। প্রতিবার গাড়ি থেকে নামার সময় সেটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সার্ভিস সেন্টারের দক্ষতা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। অনেক সময় প্রযুক্তিবিদদের দেওয়া পরিষেবা বা সমস্যার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক মনে হয়নি। ২০২২ সালে একটি সার্ভিস সেন্টারে হুইল ব্যালান্সিংয়ের সরঞ্জাম পর্যন্ত ছিল না বলে মালিক জানিয়েছেন।
ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম মোটের উপর ভালো হলেও অতীতে Apple CarPlay এবং Android Auto সংযোগে সমস্যা হয়েছে। সফটওয়্যার আপডেটের পর দুবার গাড়ি চালু করার সঙ্গে সঙ্গে ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়নি। ভয়েস কমান্ড ব্যবস্থাও খুব কার্যকর নয় বলে অভিজ্ঞতা থেকে জানানো হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কম নয়
Compass-এর মালিকানার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিকগুলির একটি হল চলতি খরচ। পাঁচ বছরে গাড়িটিতে দুই সেট টায়ার বদলাতে হয়েছে। একটি টায়ারের দাম প্রায় ১৫,০০০ টাকা।
প্রতিটি সার্ভিসে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। শহরে গাড়িটি প্রতি লিটারে প্রায় ৭-১১ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়। হাইওয়েতে সেই মাইলেজ ১৪-১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
গাড়িতে ৬০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক থাকায় একবারে জ্বালানি ভরার খরচও কম নয়। এর সঙ্গে ডিজেল এক্সহস্ট ফ্লুইড বা DEF-এর খরচ রয়েছে। ২০ লিটার DEF-এর দাম প্রায় ৭০০ টাকা এবং তা প্রায় দুইবার ফুয়েল ভরার সময় পর্যন্ত চলে।
সমস্যা সত্ত্বেও কেন Compass পছন্দ?
পাঁচ বছর ব্যবহারের পর মালিকের মূল্যায়ন বেশ পরিষ্কার। Jeep Compass-এর তুলনায় সস্তা এবং আরও বড় SUV বাজারে রয়েছে। MG Hector, Hyundai Creta, Kia Seltos-এর মতো মডেলও বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী।
Mahindra Scorpio N-এর সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে। যদিও দুই গাড়ি একই সেগমেন্ট বা একই ধরনের বডি কাঠামোর নয়, Scorpio N-এর শক্তপোক্ত গড়ন Compass-এর সঙ্গে তুলনার সুযোগ তৈরি করে।
তারপরও Compass-এর একটি আলাদা চরিত্র রয়েছে। গাড়িটির অফ-রোড সক্ষমতা, চালানোর অনুভূতি, শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন এবং স্বতন্ত্র ডিজাইন মালিককে এখনও সন্তুষ্ট করে।
অর্থাৎ, Jeep Compass নিখুঁত SUV নয়। আফটার-সেলস পরিষেবা, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, টায়ার এবং মাইলেজ নিয়ে যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। কিন্তু যারা গাড়ির চালানোর অভিজ্ঞতা, শক্তপোক্ত চরিত্র এবং অফ-রোড সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে এই সমস্যাগুলির পরেও Compass আলাদা করে মনে ধরতে পারে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের