নিষ্ফলা বৈঠক! আজ ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানে পড়ুয়ারা
রাঁচি: সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। রাজ্য সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানের ডাক…
রাঁচি: সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। রাজ্য সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানের ডাক দিল আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা। সিবিআই (CBI) তদন্ত এবং জেএসএসসি (JSSC) পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনড় পরীক্ষার্থীরা। এই মহামিছিল ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাঁচি শহর। বিধানসভা ভবনের ৭৫০ মিটারের মধ্যে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।
রবিবার হেমন্ত সোরেন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক হয় পড়ুয়াদের। কিন্তু সেই বৈঠকও নিষ্ফলা হয়েছে। জেএসএসসি এবং জেপিএসসি (JPSC) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা। যদিও রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। সরকারের দাবি, পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে। ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি আর্থিক তছরুপের তদন্তে ইডি-কে (ED) দায়িত্ব দেওয়া এবং ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। কিন্তু পড়ুয়াদের পাল্টা অভিযোগ, সরকার মিথ্যা বলছে। ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি থাকলেও মাত্র ৩টি বাতিল করতে রাজি হয়েছে প্রশাসন।
টানা আট দিন ধরে অনশনে বসেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। অসুস্থ শরীরেও সোমবারের বিধানসভা অভিযানকে ‘ঝাড়খণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের যে যন্ত্রণা, তার কাছে আমার এই শারীরিক কষ্ট কিছুই নয়। গ্রামের গরিব, কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাতে চাকরি পায়, তার জন্য এটা আমাদের নির্ণায়ক লড়াই।” অন্য দিকে, আর এক ছাত্রনেতা সঞ্জয় মেহতা জানিয়েছেন, দাবি শতভাগ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে। তবে পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন ভবন পর্যন্ত এই পদযাত্রা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভাবেই হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই জোড়া পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি। ইতিমধ্যেই রবিবার পদত্যাগ করেছেন ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (JPSC) তিন সদস্য, অজীতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদ। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সিআইডি তাঁদের তলব করার পরেই রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তাঁরা। এর আগে গত ২২ জুলাই পদত্যাগ করেছিলেন জেপিএসসি-র চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে। বেনিয়মের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার এই বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে রাঁচি জুড়ে পুলিশি প্রহরার কড়াকড়ি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং রাজ্যপাল দু’জনেই পড়ুয়াদের কাছে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না, তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। যদিও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিধানসভা অভিযানে যোগ দিতে আসা শয়ে শয়ে পড়ুয়াকে পথে আটকে দিচ্ছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাঁচীর অধিকাংশ স্কুলই এ দিন বন্ধ রাখা হয়েছে।
‘ডিম জুতো কাঁদা খেতে দিন!’ মমতার গাড়িতে কাদা কাণ্ডে প্রশাসনকে পদক্ষেপ না নেওয়ার আর্জি তথাগতের
মালদায় জাতীয় সড়ক-১২ উন্নয়নে নয়া মোড়! আগামী তিন মাসেই কেন্দ্র থেকে আসছে ৯০০ কোটি টাকা