‘আশপাশেই ছিলাম’, দাবি অভিষেকের আপ্ত সহায়কের সুমিতের
এই সময়: জমি ও চাকরি-দুর্নীতি মামলায় শনিবারের পরে রবিবারেও সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়।
এ দিন তাঁকে ভবানী ভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। এফআইআর দায়ের, পুলিশের নোটিস, আইনি টানাপড়েনের মধ্যে মাস খানেক ধরে নিখোঁজ থাকার পরে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ পেয়ে শনিবার প্রকাশ্যে আসেন সুমিত। তার আগে শুক্রবার নিউ আলিপুরে সুমিতের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিআইডি। সেই মতো শনিবার নির্ধারিত সময়ের ৬ মিনিট আগেই, সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে ভবানী ভবনে ঢোকেন তিনি। প্রথম দিন প্রায় ১০ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিবারও নির্দেশ মতো সকাল ১০টায় হাজিরা দেন সুমিত। সন্ধ্যা সওয়া ছ’টা নাগাদ সিআইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
সিআইডি সূত্রে খবর, শনিবার বেশ কিছু প্রশ্নের সদুত্তর না মেলায় রবিবার তাঁকে ডাকা হয়েছিল। কার নির্দেশে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি দুর্নীতি হয়েছে, এর পিছনে কারও চাপ ছিল কি না, কত টাকার লেনদেন হয়েছে, কে বা কারা সেই টাকা পেয়েছেন, সূত্রের খবর, এই সব প্রশ্নই রবিবার করা হয়েছে সুমিতকে। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের পুরোটা ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করা হয়।
অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে চাকরি ও জমি-দুর্নীতিতে নাম জড়ানোয় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সুমিত। হাজিরা এড়িয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত সোমবার হাইকোর্টে শালবনির জমি-দুর্নীতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হলেও, ওই জেলারই ডেবরায় চাকরি-দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ পান তিনি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁকে জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা যাবে না। পাশাপাশি, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্তও আরোপ করে শীর্ষ আদালত।
ভবানী ভবনে ঢোকার সময়ে কোন মন্তব্য না করলেও, রবিবার সন্ধ্যায় সিআইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুমিত বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতোই সব করছি। আশেপাশেই ছিলাম। এর বেশি কোনও মন্তব্য করব না।’ মেদিনীপুর শহরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার সঙ্গে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়ে সুমিত দাবি করেন, এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।