দল ও প্রশাসন পৃথক, গুড গভর্নেন্সে জোর দিলীপের
এই সময়, খড়্গপুর: তিনি শুধু খড়্গপুরের বিধায়ক নন, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রীও। খড়্গপুর পুরসভার পরিষেবা নিয়ে মানুষের বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে। এ বার সেই পুরসভার কাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। পুরসভার নানা কাজে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে এই পুরসভা তাও জানালেন তিনি।
রবিবার খড়্গপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুরসভাকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়ে দিলীপ জানান, যদি পুরসভার পারফর্ম্যান্স ঠিক না থাকে। তাহলে পুরসভার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এ দিন নারায়ণড়গড় বিধানসভার বেলদায় একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন মন্ত্রী। রাজ্যে প্রথম বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিজেপি কর্মীদের ভূমিকা কী হবে, তাঁরা কী ভাবে এগোবেন এবং সামনে পুরসভা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী ভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে তা বোঝাতেই ছিল এই প্রশিক্ষণ শিবির। সেখানে দিলীপ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে দল এবং সরকার ভিন্ন সত্তা। আমাদের এই দু’টিকে আলাদা রাখতে হবে। তবেই গুড গভর্নেন্সের উদাহরণ আমরা তৈরি করতে পারব।’ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি, মণ্ডল স্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মোর্চার সদস্যরা।
খড়্গপুর পুরসভার পরিষেবা নিয়ে মানুষের অভিযোগ কম নয়। পর্যাপ্ত জল না মেলা, কিছু এলাকায় নোংরা কালো জল সরবরাহ, পুকুর সংস্কার থেকে স্টেডিয়ামের টাকা নয়ছয় প্রভৃতি ব্যাপারে দিলীপ বলেন, ‘স্টেডিয়াম, অডিটোরিয়াম, পুকুর নিয়ে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। প্রয়োজনে এর তদন্ত হবে। যে বোর্ড রয়েছে তারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে ব্যস্ত। অন্নপূর্ণা যোজনা, আবাস যোজনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে খড়্গপুর। কেন কাজ করবে না?’ এর পরেই তিনি জানান, তৃণমূলের দখলে থাকা খড়্গপুর পুরবোর্ডকে কোনও সমস্যায় ফেলেনি বিজেপি। উল্টে সহযোগিতা করছে। তার পরেও কাজ না হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে দিলীপ বলেন, ‘আমরা তো ডিস্টার্ব করিনি। পুরবোর্ড ভাঙিনি। উল্টে সহযোগিতা করার জন্য অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। যত কেন্দ্রীয় যোজনা রয়েছে সব চালু করতে হবে। আমি এক সপ্তাহের মধ্যে পারফর্ম্যান্স দেখতে চাই। না হলে অন্য ব্যবস্থা হবে।’