রবীন্দ্র সরোবরে সোনার রোদ্দুর! জাতীয় সাব জুনিয়র রোয়িংয়ে বাজিমাত বঙ্গ-কন্যাদের
বাবান আদক, কলকাতা: রবীন্দ্র সরোবরের শান্ত জলে তখন গতির উদ্দাম ঝড়। আর সেই ঝড়ের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলার মেয়েরা। ২৭তম জাতীয় সাব জুনিয়র রোয়িং চ্যাম্পিয়নশিপে (Rowing…
বাবান আদক, কলকাতা: রবীন্দ্র সরোবরের শান্ত জলে তখন গতির উদ্দাম ঝড়। আর সেই ঝড়ের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলার মেয়েরা। ২৭তম জাতীয় সাব জুনিয়র রোয়িং চ্যাম্পিয়নশিপে (Rowing Championship ) মেয়েদের ‘ফোরস’ বিভাগে চূড়ান্ত পর্বে অনবদ্য পারফরম্যান্স করে সোনার পদক ছিনিয়ে নিল পশ্চিমবঙ্গ। ঘরের মাঠে বাংলার তরুণ রোয়ারদের এই দাপুটে সাফল্য রাজ্যের ক্রীড়ামহলে এক নতুন উন্মাদনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় রোয়িং ফেডারেশনের উদ্যোগে গত ৫ থেকে ৯ অগস্ট পর্যন্ত আয়োজিত এই সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা কলকাতাকে ফের দেশের রোয়িং মানচিত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। ক্রীড়া পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখলে এই প্রতিযোগিতার বিশালত্ব স্পষ্ট হয়। দেশের ২০টি ভিন্ন রাজ্য থেকে ২৭০ জনেরও বেশি প্রতিভাবান রোয়ার এতে অংশ নিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৩০ জন কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফ। মোট ১২টি পৃথক ইভেন্টে টানা তিন দিন ধরে প্রায় ১০০টিরও বেশি হাই ইনটেনসিটি রেস অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র সরোবরের বুকে। নিখুঁত আয়োজনে কোথাও কোনও ছন্দপতন হয়নি।
জাতীয় স্তরের এই মহারণ ছিল দেশের উদীয়মান রোয়ারদের জন্য ভবিষ্যতের সলতে পাকানোর সবচেয়ে বড় মঞ্চ। সেখানে বাংলার সাব জুনিয়র মহিলা দলের এই সোনা জয় প্রমাণ করে দিল, তৃণমূল স্তরে সঠিক পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণ পেলে জাতীয় আঙিনায় ছড়ি ঘোরাতে পুরোপুরি প্রস্তুত এই রাজ্য। এই সাফল্যের আবহে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেছেন, “খেলাধুলোর দুনিয়ায় ভারতকে যদি এক শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে জুনিয়র অ্যাথলিটদের একেবারে গোড়া থেকে সঠিক প্রশিক্ষণ এবং পরিকাঠামোগত সাহায্য দিতে হবে। ভারত আজ বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতি, এবার খেলাধুলোতেও সেই পরাক্রম দেখানোর সময় এসেছে।”
গত কয়েক দিন ধরে ভিন্ন রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের এই মহোৎসব সফলভাবে আয়োজন করে আয়োজক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে আরও
বড় মাপের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রোয়িং প্রতিযোগিতা আয়োজনে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আপাতত রবীন্দ্র সরোবরের শান্ত জলরাশি বাংলার মেয়েদের এই সোনার পদক জয়ের উৎসবের রেশ মেখেই তৃপ্ত।