পাঁচ বছরে ১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করল ভারতীয় রেল
নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলওয়ে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে (debt repayment)। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা মূলধন এবং…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলওয়ে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে (debt repayment)। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা মূলধন এবং প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২১-২২ সাল থেকে এই সুদ পরিশোধের হিসাব শুরু। করোনা মহামারীর সময় রেল মন্ত্রক অর্থ মন্ত্রকের কাছ থেকে বিশেষভাবে ৭৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। সেই ধাক্কা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধের কাজ স্থির ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে চালিয়ে গেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় সরকার থেকে মোট বাজেট সহায়তা বা গ্রস বাজেটারি সাপোর্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগে যেসব পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রোলিং স্টক কেনার জন্য অতিরিক্ত বাজেটারি রিসোর্স বা বাজার থেকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতো, (debt repayment)এখন সেই খরচ অনেকটাই কেন্দ্রের সরাসরি সহায়তায় মেটানো হচ্ছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেলওয়ে বাজার থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পথ থেকে দূরে সরে এসেছে।এটি কোনো বড় শিরোনাম তৈরি করার মতো নাটকীয় ঘটনা নয়।
আরও দেখুনঃ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানে তুরস্কের KAAN এগিয়ে, ভারতের পিছিয়ে AMCA
বরং চুপচাপ, ধারাবাহিকভাবে ঋণ কমানো এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার এক ধরনের আর্থিক গৃহস্থালি। একই সময়ে রেলওয়ের মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপেক্স রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। নতুন ট্র্যাক, আধুনিক স্টেশন, বৈদ্যুতিকরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নতুন কোচ-ইঞ্জিন কেনার কাজ একটানা চলছে। অর্থের জোগান যখন বাজার ঋণের পরিবর্তে সরকারি বাজেট থেকে আসছে, তখন ভবিষ্যতের সুদের বোঝাও কমছে।
করোনাকালীন বিশেষ ঋণ নেওয়ার পরও ঋণ পরিশোধের হার স্থির রাখা সম্ভব হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে মূলধনী ব্যয় বাড়ানোর এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রেলওয়ের ব্যালেন্স শিটকে আরও সুস্থ করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। (debt repayment)বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় সুদের খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকছে। ফলে যে অর্থ আগে সুদ পরিশোধে ব্যয় হতো, তার একটা অংশ এখন সরাসরি উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো যাচ্ছে।গতত কয়েক বছরে রেলওয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে।
আরও দেখুনঃ পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁস করা ভারতীয় উইং কমান্ডারকে চার্জশিট দিল আদালত
ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর, নতুন লাইন নির্মাণ, পুরনো লাইনের দ্বৈতীকরণ, স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা চালু করা এসব কাজ চলমান। এই সবকিছুর জন্য অর্থের জোগান যখন বাজেট সহায়তা থেকে আসছে, তখন ঋণের চাপ কমছে। একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের আয়ও ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা ঋণ পরিশোধে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।