ফুঁসছে শিলাবতী–রূপনারায়ণ, সাঁকো ভেসে নৌকোই ভরসা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফুঁসছে শিলাবতী–রূপনারায়ণ, সাঁকো ভেসে নৌকোই ভরসা

Spread the love

এই সময়,ঘাটাল: নাগাড়ে বৃষ্টিতে বেড়েছে শিলাবতী আর রূপনারায়ণের জল। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ঘাটালের বাসিন্দারা। হরিশপুরে রূপনারায়ণ নদের জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে সাঁকো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঘাটাল ও হুগলির খানাকুলের বন্দর এলাকা। অন্য দিকে চন্দ্রকোণার ঘোষকিরা এলাকায় শিলাবতী নদীর জল বইছে সাঁকোর উপর দিয়ে। সেই অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন এলাকার মানুষ। অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষায় এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আগের সরকারের কাছে পাকা সেতুর জন্য আবেদন করেও কোনও কাজ হয়নি। সরকার বদলের পরে তাঁদের সেই দাবি পূরণ হবে, আশা করছেন বাসিন্দারা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা–২ ব্লকের ভগবন্তপুর-১ পঞ্চায়েতের ঘোষকিরা এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে শিলাবতী। ঘোষকিরা–সহ কোল্লা, খুড়শি, শীর্ষা, ধর্মপোতা গ্রামের বাসিন্দাদের এই নদী পেরিয়ে ভগবন্তপুর বাজারে যাতায়াত করতে হয়। সেখান থেকে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় চন্দ্রকোণা শহরে। স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের মতো জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপার করতে হয় বাসিন্দাদের। জানা গিয়েছে, ঘোষকিরা এলাকায় একটি কাঠের সেতু তৈরি করেছিল পঞ্চায়েত। ২০২৪–এ জলের তোড়ে সেটি ভেসে যায়। তারপরে আর নতুন সেতু তৈরি হয়নি। ঘোষকিরার বাসিন্দারা চাঁদা তুলে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই সাঁকো ডুবে গিয়েছে। নিরুপায় বাসিন্দারা তার উপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব পান বলেন, ‘ঝুঁকি তো আছেই। কিন্তু কী করব? এ ছাড়া আর উপায় নেই। বিকল্প রাস্তা দিয়ে অনেকটা ঘুরতে হবে। আগের সরকারের কাছে বহু বার আবেদন করা হয়েছে একটা পাকা সেতু করে দেওয়ার জন্য। কাজ যে হয়নি তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। এখন নতুন সরকারের কাছে আবেদন, এ বার যেন স্থায়ী সমাধান হয়।’ চন্দ্রকোণা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলই বলেন, ‘ওখানে একটি স্টিল ব্রিজ তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এতে স্থায়ী সমাধান হবে। আমাদের সময় দিন, সমাধান করবো।’

ঘাটাল ব্লকের মনোহরপুর-১ পঞ্চায়েতের হরিশপুরে রূপনারায়ণ নদের উপরে বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় শুক্রবার দুপুর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ঘাটালের সঙ্গে হুগলির খানাকুল-২ ব্লকের বন্দর এলাকা। প্রতিদিন দুই জেলার হাজার খানেক মানুষ যাতায়াত করতেই এই সাঁকো দিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা দীপেন নাগ বলেন, ‘এই সাঁকো দিয়ে সহজেই কম সময়ে খানাকুল, আরামবাগ পৌঁছে যাওয়া যেত। আপাতত নৌকো ছাড়া নদী পার হওয়া সম্ভব নয়। কংক্রিটের ব্রিজের জন্য বহু বছর ধরে আবেদন করেও লাভ হয়নি। প্রতি বছর বর্ষায় এই সমস্যায় পড়তে হয়।’

জানা গিয়েছে, কংক্রিটের ব্রিজ তৈরির জন্য ২০২৩–এ এলাকার বাসিন্দারা রূপনারায়ণ সংগ্রাম কমিটি গড়ে পাকা ব্রিজ তৈরির জন্য প্রশাসনের কাছে একাধিক বার আবেদন করেছিলেন। কমিটির যুগ্ম সম্পাদক প্রসেনজিৎ কাপাস বলেন, ‘এ বার আমরা পাকা ব্রিজের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে যাব।’ ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, ‘আগের সরকার করেনি। তবে আমাদের সরকার মানুষের দাবি পূরণ করবে।’ আপাতত রূপনারায়ণ পারাপারে নৌকোই ভরসা দুই জেলার মানুষের।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *