অরুণাচলের ২৭টি স্থানের সরকারি নাম চূড়ান্ত, চিনকে কড়া বার্তা ভারতের
নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশকে (Arunachal Pradesh) ঘিরে চিনের বারবার নাম পরিবর্তনের চেষ্টার জবাবে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। শুক্রবার কেন্দ্র সরকার অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন…
নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশকে (Arunachal Pradesh) ঘিরে চিনের বারবার নাম পরিবর্তনের চেষ্টার জবাবে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। শুক্রবার কেন্দ্র সরকার অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সরকারি নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (SoI) সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির সরকারি স্বীকৃতি আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক ভৌগোলিক পরিচিতি গড়ে তোলা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, Survey of India-এর মানচিত্রে এই স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার ফলে এগুলির সঠিক পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সরকারি নথিপত্রে ব্যবহার আরও সহজ হবে।
এই তালিকায় Longju-ও রয়েছে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি ১৯৫৯ সাল থেকে চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারত এটিকে নিজের দাবিকৃত ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ ভারতের সার্বভৌম অধিকার ও আইনি অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
সরকারি তালিকায় মোট ২৭টি স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি স্থলভাগ, ৪টি গিরিপথ, ১টি হ্রদ এবং ১টি স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২১টি স্থলভাগের নাম হল Longju, Maja, Bisa, Bara Kundun, Chhota Kundun, Dhan Bari, Pritnagar, Buddhamandir, Jairampur, Teritnagar, Ramnagar, Jaswant Garh, Sagar, Padma, Jyotinagar, Baisakhi, Chhota Ropuk, Bara Ropuk, Shivaji Nagar, Sunpura এবং Kamlang Nagar।
চারটি গিরিপথের নাম Dzo La, Riza La, Pukur La এবং Thag La। এছাড়া তালিকায় রয়েছে Sambho Sarovar হ্রদ এবং Sher-e-Thapa Memorial।
একজন সরকারি আধিকারিকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের মানচিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। চিন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের জন্য নিজেদের তৈরি নাম ব্যবহার করে আসছে। Survey of India-এর সরকারি মানচিত্রে এই ২৭টি স্থান অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভারতের দাবি আরও স্পষ্ট এবং নথিভুক্ত হবে।
সরকারি সূত্রের মতে, Survey of India-এর মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে এই স্থানগুলির প্রশাসনিক গুরুত্বও বাড়বে। ভবিষ্যতে ভূমি ও রাজস্ব সংক্রান্ত নথি, জনগণনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণের মতো কাজে এই সরকারি নাম ব্যবহার করা আরও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, চিন দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভাষায় ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে আসছে। ২০১৭, ২০২১, ২০২৩, ২০২৪ এবং চলতি বছরেও বেজিং অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন শহর, নদী, পাহাড় ও অন্যান্য ভৌগোলিক স্থানের নতুন নাম প্রকাশ করেছে।
ভারত বরাবরই এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও স্থানের নাম পরিবর্তন করলেই সেই এলাকার বাস্তব অবস্থান বা সার্বভৌমত্ব বদলে যায় না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চিন অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের নতুন নাম প্রকাশ করার পর বিদেশ মন্ত্রক কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের ভূখণ্ডের অংশ এমন কোনও স্থানের জন্য চিনের কাল্পনিক নামকরণকে ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ নষ্ট করে।
২০২৫ সালের নভেম্বরেও অরুণাচল প্রদেশের এক মহিলাকে সাংহাই বিমানবন্দরে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। যদিও ২০২০ সালে শুরু হওয়া সীমান্ত অচলাবস্থার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ভারত ও চিন বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টাও দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে।
Also Read | NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব