পাক, তুরস্কের সঙ্গে সৌদির সুন্নি জোট
এই সময়: বাড়াবাড়ি করলে পাকিস্তানকে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-র হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছে ভারতের সেনাবাহিনী। নয়াদিল্লি সত্যিই ফের এমন অপারেশনে সায় দেবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আবার যদি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে পাকিস্তানের পাশে থাকবে দুই দেশ সৌদি আরব ও তুরস্ক। শুক্রবার সৌদির জেড্ডায় এই মর্মেই নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব ও তুরস্ক।
চুক্তি সই উপলক্ষে জেড্ডায় উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপ এর্দোয়ান। ‘মক্কা যৌথ চুক্তি’ সইয়ের পরে যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ওই তিনটি দেশের মধ্যে যে কোনও একটির উপরে হামলা হলে তা তিনটি দেশের উপরেই আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে ওই চুক্তির আওতায় কোন দেশ কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা কোন দেশের দায়বদ্ধতা কী, তা নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। শুধু যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তিন দেশের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘ডন’- এর প্রতিবেদন বলছে, এই চুক্তির লক্ষ্য যে কোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। মক্কা চুক্তি সইয়ের খবর পেয়েই ইরানের তোপ— ‘সৌদি আরবের জেনে রাখা উচিত যে কাগুজে কোনও চুক্তিই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। ঠিক যে ভাবে বছরের পর বছর ধরে আমেরিকাকে তোল্লাই দিয়েও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি তারা।
চুক্তির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সে ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ভারত সরকার। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে শুক্রবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুধু বলেন, ‘আমরা নজর রাখছি।’ ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, ইরান কিংবা তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সৌদি আরবে হামলা ঠেকাতেই চুক্তিটি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, শিয়া অধ্যুষিত ইরানের বিরুদ্ধে এ ভাবেই জোট বাঁধল সুন্নি তিন দেশ। এই জোটকে ‘সুন্নি ন্যাটো বাহিনী’ বলেও তকমা দিয়েছে অনেকে। যদিও তুরস্ক দাবি করেছে, মক্কা চুক্তি কোনও নির্দিষ্ট দেশের কথা মাথায় রেখে করা হয়নি। এটি মূলত এই তিন দেশের যৌথ নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে এবং শত্রুদের হামলা থেকে বিরত রাখবে।