শ্রাবণ শিবরাত্রি ২০২৬ কবে? জেনে নিন পূজার শুভ সময় ও ব্রতের নিয়ম
শ্রাবণ মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি শ্রাবণ শিবরাত্রি (Sawan Shivratri)। এই দিনটি ভগবান শিবের আরাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। শিবভক্তরা এদিন উপবাস পালন…
শ্রাবণ মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি শ্রাবণ শিবরাত্রি (Sawan Shivratri)। এই দিনটি ভগবান শিবের আরাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। শিবভক্তরা এদিন উপবাস পালন করেন, জলাভিষেক করেন, রাত্রিব্যাপী পূজা ও ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠার সঙ্গে শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং শিবের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
২০২৬ সালে শ্রাবণ শিবরাত্রি পালিত হবে ১১ আগস্ট (মঙ্গলবার)। পঞ্জিকা অনুযায়ী, কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি শুরু হবে ১১ আগস্ট ভোর ৪টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ১২ আগস্ট রাত ১টা ৫২ মিনিটে। তাই ১১ আগস্টই শিবরাত্রির পূজা ও ব্রত পালন করা হবে।
শিবরাত্রির পূজার মধ্যে নিশীথ কালকে সবচেয়ে শুভ সময় হিসেবে ধরা হয়। ২০২৬ সালে নিশীথ কালের পূজার সময় ১১ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ১২ আগস্ট রাত ১২টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মোট সময়কাল প্রায় ৪৩ মিনিট।
অনেক ভক্ত আবার সারা রাত চার প্রহরে শিবপূজাও করে থাকেন। প্রথম প্রহরের পূজা সন্ধ্যায় শুরু হয় এবং শেষ প্রহরের পূজা ভোর পর্যন্ত চলে।
এবারের শ্রাবণ শিবরাত্রিতে ভদ্রা-র বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ আগস্ট রাত ১০টা ২২ মিনিট থেকে ১১ আগস্ট সকাল ১১টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত ভদ্রা থাকবে। ফলে ১১ আগস্ট সন্ধ্যার মূল শিবপূজা এবং নিশীথ কালের পূজা ভদ্রার বাইরে অনুষ্ঠিত হবে। তাই সন্ধ্যার জলাভিষেক ও রাতের পূজায় ভদ্রার কোনো বাধা নেই। তবে যারা কঠোরভাবে পঞ্জিকা মেনে চলেন, তারা ভদ্রা চলাকালীন বিশেষ সংকল্প বা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার এড়িয়ে চলতে পারেন।
শ্রাবণ শিবরাত্রিতে জলাভিষেকের নিয়মও অত্যন্ত সহজ। সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরুন এবং ভগবান শিবের ছবি বা শিবলিঙ্গের সামনে বসে ব্রত ও পূজার সংকল্প নিন। প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করান। এরপর সম্ভব হলে দুধ, দই, মধু, ঘি ও চিনি নিবেদন করুন। তারপর আবার জল দিয়ে শিবলিঙ্গ পরিষ্কার করুন। এরপর বেলপাতা, সাদা ফুল, চন্দন, অক্ষত, ফল এবং ধুতুরা নিবেদন করুন।
জলাভিষেকের সময় ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করতে পারেন। যাঁরা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জানেন, তাঁরাও সেই মন্ত্র জপ করতে পারেন। শাস্ত্র মতে, ভগবান শিব জাঁকজমকের চেয়ে ভক্তির মূল্যই বেশি দেন।
শিবরাত্রির ব্রত পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই সারাদিন নির্জলা বা ফলাহার উপবাস করেন। কেউ কেউ শুধু ফল, দুধ ও জল গ্রহণ করেন। পূজা শেষ হওয়ার পর সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা হয়। এদিন মদ্যপান, পেঁয়াজ, রসুন, আমিষ খাবার, রাগ এবং কঠোর ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ শিবরাত্রির রাতে জেগে ভগবান শিবের আরাধনা, শিবরাত্রির কাহিনি শোনা, শিবমন্ত্র জপ এবং শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করলে ভয়, মানসিক চাপ ও জীবনের নানা সমস্যা দূর হয় এবং ভগবান শিবের বিশেষ কৃপা লাভ করা যায়।