ট্রফি খরা কাটাতে স্পোর্টস সায়েন্সে জোর, CAB-এর নতুন পরিকল্পনা
বাবান আদক, কলকাতা: রঞ্জি ট্রফিসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্টগুলিতে দীর্ঘদিনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খরা কাটাতে এবার আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্স বা ক্রীড়াবিজ্ঞানের দ্বারস্থ হলো ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল…
বাবান আদক, কলকাতা: রঞ্জি ট্রফিসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্টগুলিতে দীর্ঘদিনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খরা কাটাতে এবার আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্স বা ক্রীড়াবিজ্ঞানের দ্বারস্থ হলো ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB) ।বাংলার ক্রিকেটারদের চোট আঘাত কমানো এবং সার্বিক ফিটনেসের মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত এক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নতুন নিযুক্ত ফিজিয়ো এবং স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচদের সঙ্গে এই নয়া ব্লু প্রিন্ট বাস্তবায়নের বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার একাধিক ক্রিকেটার ব্যক্তিগত স্তরে ধারাবাহিক ভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, অভিমন্যু ঈশ্বরন কিংবা অভিষেক পোড়েলরা জাতীয় দলে নিয়মিত ডাক পাচ্ছেন। কিন্তু দলগত পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। প্রায় প্রতি মরশুমেই আশা জাগিয়ে শুরু করলেও রঞ্জি ট্রফি বা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির মতো প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ট্রফি অধরাই থাকছে বাংলার। এই দলগত ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে চূড়ান্ত পর্যায়ে খেলোয়াড়দের ফিটনেসের অভাব এবং দীর্ঘ মরশুমে চোট আঘাতের সমস্যাকে চিহ্নিত করেছে সিএবি।
এই ঘাটতি মেটাতেই এবার ঢেলে সাজানো হচ্ছে বাংলার প্রশিক্ষণ শিবির। দেশের অন্যতম সেরা পেশাদারদের হাতে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। সিএবি সূত্রে খবর, প্রথাগত অনুশীলনের বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই নতুন কাঠামোর অধীনে মূলত বোলারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট বা শারীরিক ধকলের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণের উপর কড়া নজর রাখা হবে। পাশাপাশি, মাঠে ফিল্ডিংয়ের ক্ষিপ্রতা বৃদ্ধি, শারীরিক সক্ষমতার মানোন্নয়ন এবং চোটের ঝুঁকি কমানোর জন্য আধুনিক ট্রেনিং প্রোগ্রাম প্রস্তুত করা হয়েছে।
ক্রিকেটীয় দক্ষতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েটের দিকেও কড়া নজরদারি চালাবে বাংলার ক্রিকেট বোর্ড। প্রতিটি ক্রিকেটারের ফিটনেস এবং স্বাস্থ্যের যাবতীয় তথ্য সিএবির নিজস্ব ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে, যাতে যে কোনও মুহূর্তে তা বিশ্লেষণ করা যায়। ক্রিকেট প্রশাসনের একাংশের মতে, বাংলার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত এই পরিকাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে রঞ্জির দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটানো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।