বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজার শহর, দু’ বছরে ভোল বদলের আশ্বাস স্পিকারের - 24 Ghanta Bangla News
Home

বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজার শহর, দু’ বছরে ভোল বদলের আশ্বাস স্পিকারের

Spread the love

এই সময়, কোচবিহার: মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর টানা বৃষ্টির ফলে হেরিটেজ শহর কোচবিহার জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বেহাল নিকাশির করুণ চিত্রটা আরও একেবারে বেআব্রু হয়েছে। তবে শুধু শহর নয়, শহরতলি–সহ দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ বিভিন্ন শহরেই জল জমে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন নাগরিকরা। ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জনমানসে।

কোচবিহার জেলার সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত কোচবিহার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোচবিহার সদরে ২৫৪.২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তারপর মাথাভাঙায় ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনহাটায় হয়েছে ১২০ মিলিমিটার এবং মেখলিগঞ্জে ১৩২ মিলিমিটার। সবচেয়ে কম তুফানগঞ্জে ৫২.২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জেলার সমস্ত নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে। তবে শুধুমাত্র মেখলিগঞ্জে তিস্তায় হলুদ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই নিচু গ্রামীণ এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কোচবিহার শহর এবং সংলগ্ন এলাকার। শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া, কেশব রোড, সুনীতি রোড, পুলিশ লাইন এলাকা, কলাবাগান, নতুন বাজার, বাজারের মাঠ, নিউ টাউন এলাকায় মুল রাস্তা এবং গলির রাস্তাগুলোতেও জল দাঁড়িয়ে যায়। বহু বাড়ি ও দোকানে জল ঢুকে পড়ে। এর ফলে দোকানপাট খুলতে পারেননি অনেক ব্যবসায়ী। একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে এদিন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।

শহরের বাসিন্দা কমল সরকার, অনিমা বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ‘এমনিতেই নিকাশির অবস্থা ভালো নয়। তার মধ্যে অপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন জায়গায় দোকান এবং বাড়ি হয়েছে। জল বের হওয়ার কোনও জায়গা নেই। এই বৃষ্টিতে বাড়িতে জল ঢুকে গেল। শুনেছিলাম একটি নর্দমা তৈরির বড় প্রকল্প হবে। সেটাও তো আজ পর্যন্ত হলো না।’ কোচবিহার পুরসভাকে কাঠগড়ায় তোলেন তাঁরা।

কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোস, দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়, কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক সুকুমার রায় এ দিন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে রথীন্দ্র সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘গোটা শহর জলমগ্ন। মানুষের বাড়িতে নোংরা জল ঢুকে গিয়েছে। সমস্ত এলাকা পরিদর্শন করে খুব খারাপ লাগল। রাজার শহর সিটি অফ বিউটি নামে পরিচিত, এই শহরের আজ এই হাল।’ ২০২৮–এর মধ্যে এই শহরকে দেশের দশটি সুন্দর শহরের মধ্যে একটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *