Rani Mukerji birth story: নার্সের ভুলে, হাসপাতালের বিছানায় বদলে গিয়েছিলেন রানি! জন্মের পর ঠিক কী ঘটেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে? | Rani Mukerji Switched at Birth: How Krishna Mukherjee Found Her Brown Eyed Baby
সিনেমায় তো কতই দেখেছেন, হালকা আলো, ব্যাকগ্রাউন্ডে সানাইয়ের সুর, আর নার্স এসে মায়ের কোলে ফুটফুটে বাচ্চা দিয়ে বলছে, “অভিনন্দন, আপনার মেয়ে হয়েছে!” কিন্তু বলি-কুইন রানি মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে গল্পটা অতটা ফ্রেমে বাঁধা ছিল না। বলতে গেলে, জীবনের ডেবিউটা কোনওওক্রমে রক্ষা পেয়েছিল এক বাদামি চোখের গুণে! জন্মের দিনই হাসপাতালেই সটান কোল বদল হয়ে গিয়েছিলেন রানি।
১৯৭৮ সালের ২১ মার্চ। প্রযোজক রাম মুখোপাধ্যায় আর কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের ঘর আলো করে এল এক পুঁচকে মেয়ে। কিন্তু কাহানিতে আসল টুইস্ট আনলেন হাসপাতালের নার্সরা। রুটিন চেকিংয়ের নামে ছোট্ট রানিকে নিয়ে গিয়ে সোজা চালান করে দিলেন অন্য এক দম্পতির ঘরে! আর রানি ভেবে মুখোপাধ্যায় গিন্নির কোলে দিয়ে এলেন আর এক পঞ্জাবি দম্পতির সদ্যজাতকে।
তখন কেবিনে এক আত্মীয়ের সঙ্গে জমিয়ে গল্প করছিলেন কৃষ্ণা দেবী। নার্স বাচ্চা কোলে দিতেই তাঁর জহুরির চোখ চলে গেল বাচ্চার মুখের দিকে। ব্যস, দেখামাত্রই মাথায় হাত! চিৎকার করে বললেন, “আরে, এটা কার বাচ্চা দিলেন? আমার মেয়ের চোখ তো বাদামি! এই বাচ্চার চোখ তো ওরকম নয়! আমার আসল মেয়ে গেল কোথায়? জলদি খুঁজে আনুন!”
মায়ের চোখের জহুরি ধরা তো আর এড়ানো যায় না! পুরো হাসপাতালে তখন তুলকালাম কাণ্ড। নার্স-ডাক্তার সবাই মিলে এক কেবিন থেকে অন্য কেবিনে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলেন। খুঁজতে খুঁজতে কৃষ্ণা দেবী নিজেই হাজির হলেন পাশের এক পঞ্জাবি পরিবারের কেবিনে। গিয়ে তো তাঁর চোখ চড়কগাছ! দেখেন, সেখানে দিব্যি হাত-পা ছুড়ছে তাঁর সেই বাদামি চোখের পুঁচকে রানি। আর মজাটা হল, ওই পঞ্জাবি দম্পতির ওটি ছিল পরপর ৮ নম্বর মেয়ে!
রানি নিজে এক সাক্ষাৎকারে হেসে কুপোকাত হয়ে বলেছিলেন, “আমার বাড়ির লোক এখনও আমাকে ক্ষ্যাপায়! বলে, তুই তো আসলে পঞ্জাবিদেরই মেয়ে, আমাদের ভুলে এই মুখোপাধ্যায় পরিবারে এসে আটকে গেছিস!”
তবে গল্পের সবথেকে স্পেশ্যাল টুইস্ট কোনটা জানেন? রানি একবার মজার ছলেই বলে বসেছিলেন, “জন্মের সময় পঞ্জাবি পরিবারে আটকে ছিলাম, কে জানে হয়তো কোনও পঞ্জাবি ছেলেকেই বিয়ে করে বসব!” আর কপাল দেখুন, ভবিষ্যদ্বাণী একেবারে হান্ড্রেড পার্সেন্ট সত্যি! ২০১৪ সালে চুপিচুপি গিয়ে পঞ্জাবি পুত্তুর আদিত্য চোপড়াকেই বিয়েটা করে এলেন। একেবারে পারফেক্ট ফিলমি স্ক্রিপ্ট, তাই না?