বাড়িতে পুজোর সময় কোন দিকে মুখ করে বসবেন? বাস্তুশাস্ত্র কী বলছে জানুন
বাড়িতে নিয়মিত পুজো, ধ্যান বা জপ করার সময় কোন দিকে মুখ করে বসা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল থাকে। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুসারে, পুজোর সময়…
বাড়িতে নিয়মিত পুজো, ধ্যান বা জপ করার সময় কোন দিকে মুখ করে বসা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল থাকে। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুসারে, পুজোর সময় দিক নির্বাচন শুধু একটি প্রথা নয়, বরং এটি ইতিবাচক পরিবেশ, মানসিক একাগ্রতা এবং আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। যদিও এই ধারণাগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও ভারতের বহু পরিবার আজও এই নিয়ম মেনে পুজো করেন।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির পুজোর ঘর পরিষ্কার, শান্ত ও আলো-বাতাসপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সঠিক দিকে মুখ করে বসাও গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। কোন দিককে সবচেয়ে শুভ ধরা হয় এবং কোন দিক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, তা নিয়েই রয়েছে বিভিন্ন মত।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, পূর্বমুখী হয়ে পুজো করা সবচেয়ে শুভ বলে বিবেচিত হয়। পূর্ব দিক সূর্যোদয়ের দিক, আর বৈদিক ঐতিহ্যে উদীয়মান সূর্যকে নতুন সূচনা, ইতিবাচক শক্তি, জ্ঞান এবং জীবনীশক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অনেকের বিশ্বাস, পূর্বদিকে মুখ করে প্রার্থনা করলে মনোযোগ বাড়ে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের পুজো বা ধ্যানের জন্য পূর্ব দিককে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
Also Read | মহাকাল মডেলে গড়ে উঠবে গঙ্গাসাগর? কেন্দ্রের কাছে সহায়তা চাইল ‘শুভ-হিন্দু’ সরকার
উত্তরমুখী হয়ে পুজো করাও বাস্তুশাস্ত্রে শুভ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর দিককে ধন-সম্পদের দেবতা কুবেরের দিক হিসেবে ধরা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিকে মুখ করে প্রার্থনা করলে সমৃদ্ধি, জ্ঞান এবং জীবনের ভালো সুযোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। জ্যোতিষশাস্ত্রেও উত্তর দিককে বুধ গ্রহের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা ও যোগাযোগের প্রতীক বলে বিবেচিত।
শুধু পুজোর সময় নয়, বাড়ির মন্দির কোথায় থাকবে, সেই বিষয়েও বাস্তুশাস্ত্রে বিশেষ পরামর্শ রয়েছে। বাস্তু মতে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ বা ঈশান কোণ পুজোর ঘরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। এই দিককে ইতিবাচক আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস বলে মনে করা হয়। যদি ঈশান কোণ ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে পূর্ব বা উত্তর দিকে পুজোর স্থান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
Also Read | ঘড়ির বিজ্ঞাপনে প্রায় সবসময়ই ১০:১০ কেন দেখানো হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন
অন্যদিকে, বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে দক্ষিণমুখী হয়ে নিয়মিত পুজো করা এড়িয়ে চলা উচিত। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দক্ষিণ দিকের সঙ্গে যমের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়। একইভাবে, দৈনন্দিন গৃহপুজোর ক্ষেত্রে পশ্চিমমুখী হয়ে বসাকেও তুলনামূলক কম শুভ বলে ধরা হয়। তবে বিভিন্ন মন্দির, দেবতা এবং পারিবারিক রীতিনীতি অনুযায়ী এই নিয়মে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
বাস্তুশাস্ত্র আরও বলছে, পুজোর ঘর সবসময় পরিষ্কার, অগোছালো-মুক্ত এবং পর্যাপ্ত আলোযুক্ত হওয়া উচিত। অনেকেই পুজোর সময় প্রদীপ জ্বালান, তাজা ফুল অর্পণ করেন এবং ধূপ জ্বালিয়ে শান্ত ও ভক্তিময় পরিবেশ তৈরি করেন। এসব আচার মানসিকভাবে একাগ্র হতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
ধর্মীয় পণ্ডিতদেরও মত, পুজোর সময়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে নিয়মিত প্রার্থনা ও আন্তরিক ভক্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও মন দিয়ে প্রার্থনা করলে মানসিক শান্তি ও আত্মিক তৃপ্তি লাভ করা যায় বলে তাঁরা মনে করেন।
তবে মনে রাখা জরুরি, বাস্তুশাস্ত্রের এই পরামর্শগুলি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। এগুলির বৈজ্ঞানিক সত্যতা প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই এগুলি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতিনীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই শ্রেয়।