মাদ্রাসায় কি পড়ানো হচ্ছে তার দিকে কড়া নজর দেওয়ার আর্জি তথাগতর
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল (Tathagata Roy)পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পাঠক্রম সংশোধনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার উচ্চ মাধ্যমিক পরিষদের কার্যালয়ে…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল (Tathagata Roy)পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পাঠক্রম সংশোধনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার উচ্চ মাধ্যমিক পরিষদের কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এই বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি পাঠক্রম পরিবর্তন ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন।
আরও দেখুনঃ মমতা সামনে ১৮০০০ কোটির রেশন দুর্নীতি! তদন্তে উঠে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য
মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে তিনি স্পষ্ট মত দেন। তথাগত রায়ের (Tathagata Roy)কথায়, শুধু যারা মসজিদের ইমাম হতে চান, তাদের জন্যই মাদ্রাসার দরজা খোলা থাকা উচিত। বাকি সব মাদ্রাসাকে সাধারণ স্কুলে রূপান্তরিত করতে হবে। যতদিন তা সম্ভব না হচ্ছে, ততদিন মাদ্রাসায় কী পড়ানো হচ্ছে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০২ সালে তৎকালীন সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজেই বলেছিলেন যে কিছু মাদ্রাসায় রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার হয়।
তথাগত রায় (Tathagata Roy)বলেন, শিক্ষা ও শিক্ষণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের সেই উক্তি ‘রাজনীতির বাইরে কিছু হয় না’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অরাজনৈতিক মনীষীদের জীবনী অবশ্যপাঠ্য করা উচিত, যাতে ছাত্রছাত্রীরা অনুকরণযোগ্য আদর্শ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
আরও দেখুনঃ ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট চাই না’, হাসিনাকে নিয়ে চর্চার মাঝে বার্তা ঢাকার
ইতিহাসের পাঠক্রমে যেসব বিষয় এতদিন লুকিয়ে রাখা হয়েছে, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগের শাসনে হিন্দুদের বঞ্চনা, ১৯৪৭-এর পর পূর্ববঙ্গে হিন্দু নির্যাতন, উদ্বাস্তুদের আগমন ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলা, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের মতো ঘটনা।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পাঠ্য ও পাঠক্রম সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করেছে। লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন সিলেবাস চালু করা, যা জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। শিক্ষামন্ত্রীরা জানিয়েছেন, পাঠক্রম হবে রাজনীতিমুক্ত এবং তোষণমুক্ত। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনা বা আন্দোলনকে ইতিহাসের নামে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলা এবং ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে।