Purba Bardhaman: ‘আপনারা মিথ্যা কথা কইছেন’, এক কোটি টাকা বিধবা ভাতা ‘পেয়ে’ চোখ কপালে পরিচারিকার | West Bengal Widow Shocked After Rs 1 Crore Widow Pension Credit Appears in Bank Account, Bank Cites Technical Error
মঙ্গলকোট: স্বামী মারা গিয়েছেন। অভাবের সংসার। অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। আর এই অভাবের সংসারে বিধবা ভাতার টাকায় কিছুটা সুরাহা হয়। কিন্তু, ২-৩ মাস সেই বিধবা ভাতার টাকা না ঢোকায় ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। আর সেখানে গিয়ে যা জানলেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ঝুমা দাসের। তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতা হিসেবে ১ কোটি টাকা ঢুকেছে। নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণে টাকা দেখে এখন রাতের ঘুম উড়েছে ওই পরিচারিকার।
মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামে বাড়ি ঝুমা দাসের। পরিচারিকার কাজ করেন। তাঁর ছেলে ভাড়ার গাড়ি চালান। অভাবের সংসার। তিনি তিন মাস ধরে বিধবা ভাতার টাকা পাননি। তাই সোমবার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে তিনি পাসবই আপডেট করিয়ে চমকে ওঠেন। পাসবইয়ে স্পষ্ট ছাপা রয়েছে, ২০২৬ সালের ৪ জুলাই WIDOW PENSION-এ তাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি টাকা ঢুকেছে। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি পরিচারিকা ঝুমা দাস। এরপরই তিনি বাড়িতে চলে আসেন। গ্রামের সবাইকে জানান। পাশাপাশি তিনি মঙ্গলকোট থানার দ্বারস্থ হন।
মঙ্গলবার দুপুরে আবার ব্যাঙ্কে যান ঝুমাদেবী। নড়েচড়ে বসে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ঝুমাদেবীকে ব্যাঙ্ক জানায়, কম্পিউটারের ভুলে এত বেশি টাকা দেখাচ্ছে। তারপরই তারা তড়িঘড়ি করে ঝুমাদেবীর পাসবই পরিবর্তন করে দেয়।
কী বলছেন ঝুমা দাস?
বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না বলে তিনি ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন জানিয়ে ঝুমা দাস বলেন, “আমার পাসবুক দেখে প্রথমে বলল, তোমার অ্যাকাউন্টে তো এক কোটি টাকা আছে। আমি বললাম, কী বলছেন এক কোটি টাকা। আপনারা মিথ্যা কথা কইছেন। আমি তিন-চার মাস টাকা পাই নাই। আমরা গরিব। কী করবেন আমার টাকা খেয়ে। আমি না পাই না পাব, ভগবান বিচার করবে। তখন বলল, তোমাকে মিথ্যা কথা বলিনি। অনেক টাকা ঢুকেছে।”
তাঁর অ্যাকাউন্টে কীভাবে এত টাকা ঢুকল, তা নিয়ে চিন্তায় ঝুমাদেবী। তাঁর দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক। কারণ ওই টাকা তাঁর প্রাপ্য নয়। ভুলবশত অন্যের টাকা ঢুকে থাকলে তা ফেরত দেওয়া হোক বলে তিনি জানান। তাঁকে কেউ ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও তিনি আতঙ্কিত। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, কম্পিউটারের ভুলে এত টাকা দেখাচ্ছে। তবে সঠিক কী কারণে এত টাকা ঝুমা দাসের অ্যাকাউন্টে দেখানো হল, তা খতিয়ে দেখছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ।