যোগী-রাজ্যে ৭ লক্ষ কর্মসংস্থান, ৮.৫ লক্ষ বিক্রেতাকে ডিজিটাল বাজারে যুক্ত করেছে Flipkart
লখনউ, ৪ আগস্ট: উত্তরপ্রদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও জোরদার করল ভারতের অন্যতম ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট (Flipkart)। সংস্থার দাবি, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে তাদের…
লখনউ, ৪ আগস্ট: উত্তরপ্রদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও জোরদার করল ভারতের অন্যতম ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট (Flipkart)। সংস্থার দাবি, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৭ লক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের ৮.৫ লক্ষেরও বেশি বিক্রেতা ফ্লিপকার্টের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফ্লিপকার্ট জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের এমএসএমই, কারিগর, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বারাণসীর বিখ্যাত বেনারসি সিল্ক, লখনউয়ের চিকনকারি, মোরাদাবাদের পিতলের সামগ্রী, কার্পেট, কাঠের হস্তশিল্প এবং চামড়াজাত পণ্য এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
এই সম্প্রসারণকে সমর্থন করতে উত্তরপ্রদেশে ফ্লিপকার্ট প্রায় ২৪ লক্ষ বর্গফুট লজিস্টিক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, সোর্টিং সেন্টার এবং ২২০টিরও বেশি গ্রোসারি, সিটি ও লাস্ট-মাইল হাব। এই নেটওয়ার্কের ফলে বিক্রেতাদের দ্রুত বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি গ্রাহকদেরও দ্রুত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সংস্থা জানিয়েছে, উৎসবের মরশুম এবং দ্য বিগ বিলিয়ন ডেজ-এর সময় এই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
দ্রুত ডেলিভারির পরিষেবা Flipkart Minutes-এর ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ অন্যতম বড় বাজার হিসেবে উঠে এসেছে। বর্তমানে ২০টি শহরে ১২৬টি মাইক্রো ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালু রয়েছে। সম্প্রতি গোরখপুরে সংস্থার ১,০০০তম Flipkart Minutes স্টোর চালু হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় উদ্যোক্তা, সরবরাহকারী এবং কৃষকদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ফ্লিপকার্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তি বলেন, উত্তরপ্রদেশ দেশের অন্যতম উদ্যোক্তা-সমৃদ্ধ রাজ্য। রাজ্যের সরকার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কারিগর, কৃষক এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার সুযোগ পেয়ে সংস্থা কৃতজ্ঞ। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ODOP) প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাজার আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফ্লিপকার্টের Samarth উদ্যোগের আওতায় যুক্ত বিক্রেতার সংখ্যা বছরওয়ারি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রতি কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কৃষকদের জন্যও একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। Walmart Foundation-এর সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের ২৭টি জেলার ৮৫ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি নারী কৃষক। ১০০টিরও বেশি Farmer Producer Organisation (FPO)-এর সঙ্গে কাজ করে কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করছে ফ্লিপকার্ট। এছাড়া Flipkart Samarth Krishi উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের এফপিওগুলির কাছ থেকে ৩ লক্ষ কেজিরও বেশি কৃষিপণ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ফ্লিপকার্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সংস্থা ছয়টি জেলায় ২৬ হাজারের বেশি মানুষের কাছে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা, যুব দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং অসহায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি।
এছাড়াও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার, রুফটপ সোলার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো উদ্যোগেও জোর দিচ্ছে ফ্লিপকার্ট। সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান Myntra বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের ৩,১০০-এর বেশি বিক্রেতা এবং প্রায় ৪,৭০০টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে Cleartrip বারাণসী, অযোধ্যা, আগ্রা, প্রয়াগরাজ এবং মথুরা-বৃন্দাবনের মতো ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে দেশের পর্যটকদের সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত করতে ভূমিকা রাখছে।
ফ্লিপকার্টের মতে, উত্তরপ্রদেশে তাদের এই যাত্রা সরকার, প্রযুক্তি এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ। আগামী দিনেও বাজার সম্প্রসারণ, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষক, কারিগর, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য আরও টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে সংস্থা কাজ চালিয়ে যাবে।