খাওয়ার পর গ্যাস, পেট ফাঁপা? খাদ্যতালিকায় এই পরিবর্তনেই মিলতে পারে স্বস্তি
অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে হজমের সমস্যা (Digestive Health) এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। খাওয়ার পর বুক…
অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে হজমের সমস্যা (Digestive Health) এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। খাওয়ার পর বুক জ্বালা, গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্বল কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ভোগেন অসংখ্য মানুষ। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যার পেছনে বড় কারণ হতে পারে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দ্রবণীয় তন্তু বা সল্যুবল ফাইবার (Soluble Fiber)-এর ঘাটতি।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সল্যুবল ফাইবার হজমের সময় জলের সঙ্গে মিশে জেলজাতীয় একটি পদার্থ তৈরি করে। এটি খাবারকে ধীরে ধীরে অন্ত্রে এগোতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে আরও স্বাভাবিক রাখে। এর ফলে খাবার দ্রুত হজম না হয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভাঙে, যা অনেকের ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া এই ধরনের ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি মিলে তৈরি করে গাট মাইক্রোবায়োম (Gut Microbiome), যা হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাবারে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনলেই সল্যুবল ফাইবারের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। যেমন:
• ওটস
• চিয়া সিডস
• আপেল
• বিভিন্ন ধরনের ডাল
• শিম
• সবুজ শাকসবজি
এই খাবারগুলি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পেটের সামান্য সমস্যা হলেই ওষুধ বা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর না করে প্রথমে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রাকৃতিক উৎস থেকে পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ করলে শুধু হজমের সমস্যাই নয়, খারাপ কোলেস্টেরল (LDL Cholesterol) কমাতে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণেও উপকার মিলতে পারে।
তবে ফাইবারের পরিমাণ একদিনে হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে উল্টো গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। কারণ পর্যাপ্ত জল ছাড়া ফাইবার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
এছাড়া সুস্থ হজমের জন্য কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ:
• নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া।
• খুব দ্রুত না খেয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া।
• অতিরিক্ত তেল, ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো।
• নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করা।
• পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
তবে মনে রাখা দরকার, বারবার পেটে ব্যথা, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তমিশ্রিত মল, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী বুক জ্বালার মতো সমস্যা থাকলে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের উপর নির্ভর না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে, যার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।