জিমে শুধু পরিশ্রম নয়, কেন রিকভারিই ফিটনেসের আসল চাবিকাঠি?
অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: এক সময় মনে করা হতো, জিমে (Gym ) যত বেশি সময় কাটানো যাবে, যত বেশি ঘাম ঝরবে এবং শরীরকে যত বেশি ক্লান্ত…
অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: এক সময় মনে করা হতো, জিমে (Gym ) যত বেশি সময় কাটানো যাবে, যত বেশি ঘাম ঝরবে এবং শরীরকে যত বেশি ক্লান্ত করা যাবে, তত দ্রুত ফিটনেস অর্জন সম্ভব। কিন্তু আধুনিক ফিটনেস বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ও স্পোর্টস মেডিসিন চিকিৎসকেরা জোর দিচ্ছেন ‘রেস্ট অ্যান্ড রিকভারি’-র উপর। তাঁদের মতে, শুধু কঠোর ব্যায়াম নয়, ব্যায়ামের পর শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যায়ামের সময় আমাদের পেশিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টান বা মাইক্রো-টিয়ার (Micro-tear) তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন, জিমে গিয়েই পেশি শক্তিশালী হয়। কিন্তু বাস্তবে ব্যায়ামের পরে বিশ্রামের সময়ই শরীর সেই ক্ষতিগ্রস্ত পেশিগুলিকে মেরামত করে এবং আরও শক্তিশালী করে তোলে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা ওভার-ট্রেনিং (Overtraining) শরীরের জন্য নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। এতে পেশির ক্ষয়, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন এবং চোট পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে ব্যায়ামের ফল উল্টো কমে যায়।
এই কারণেই বর্তমানে ফিটনেস দুনিয়ায় রিকভারি-কে প্রশিক্ষণের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু জিমে কঠোর অনুশীলন করলেই হবে না, শরীরকে সুস্থভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগও দিতে হবে।
রিকভারি দ্রুত করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
• প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম।
• শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ।
• নিয়মিত স্ট্রেচিং করে পেশিকে নমনীয় রাখা।
• হালকা যোগব্যায়াম বা মোবিলিটি এক্সারসাইজ করা।
• প্রয়োজন অনুযায়ী কোল্ড ওয়াটার থেরাপি বা ঠান্ডা পানির ব্যবহার।
এছাড়া শরীরের সংকেত বোঝাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ব্যায়ামের পর দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশিতে তীব্র ব্যথা, ঘুমের সমস্যা বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে সেটি শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজনের ইঙ্গিত হতে পারে।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত এক বা দুই দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম রাখা উচিত। এই সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং পরবর্তী অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত হয়। অনেকেই মনে করেন বিশ্রামের দিন মানেই অলসতা, কিন্তু বাস্তবে এটি প্রশিক্ষণ পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমান ফিটনেস দর্শনের মূল বার্তা হল, “Train Smart, Recover Smarter”। অর্থাৎ শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত বিশ্রামের সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও ফিট শরীর গড়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তবে মনে রাখা জরুরি, প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং ব্যায়ামের ধরন অনুযায়ী বিশ্রামের প্রয়োজনও ভিন্ন হতে পারে। তাই নতুন কোনও ব্যায়াম শুরু করার আগে বা দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও ব্যথা থাকলে একজন প্রশিক্ষিত ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।