ঘুম ভাঙতেই ফোন স্ক্রোল করছেন? বাড়তে পারে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি
অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেকের প্রথম কাজ হয় স্মার্টফোন হাতে নেওয়া (Digital Detox )। চোখ খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শুরু হয় ফেসবুক,…
অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেকের প্রথম কাজ হয় স্মার্টফোন হাতে নেওয়া (Digital Detox )। চোখ খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শুরু হয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা খবরের অ্যাপ স্ক্রোলিং। দেখতে এটি সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে দিনের শুরুতেই এই অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ জেগে উঠতে কিছুটা সময় নেয়। এই সময়ে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রামের অবস্থা থেকে সক্রিয় অবস্থায় প্রবেশ করে। ঠিক তখনই যদি একসঙ্গে অসংখ্য নোটিফিকেশন, খবর, ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য চোখের সামনে চলে আসে, তাহলে মস্তিষ্কের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে।
এর ফলে শরীরে কোর্টিসল (Cortisol) বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন নতুন কনটেন্ট দেখার কারণে ডোপামিন (Dopamine)-এর সাময়িক বৃদ্ধি ঘটে, যা কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করলেও পরে মনোযোগে ব্যাঘাত, অস্থিরতা এবং মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ক যখন তথ্যের চাপে পড়ে, তখন সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা, মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেকেই দিনের শুরু থেকেই অকারণে উদ্বিগ্ন, খিটখিটে বা ক্লান্ত বোধ করেন। সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সাফল্য, নেতিবাচক খবর বা একের পর এক নোটিফিকেশনও মানসিক চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে মনোবিদরা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এর পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্মার্টফোন ব্যবহার না করাই ভালো।
এই সময়টুকুতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। যেমন:
• কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা।
• বারান্দা বা খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসে সময় কাটানো।
• এক কাপ চা বা কফি নিয়ে শান্তভাবে দিন শুরু করা।
• হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করা।
• কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন বা ধ্যান করা।
• দিনের কাজের পরিকল্পনা লিখে নেওয়া।
এই ধরনের অভ্যাস শুধু মানসিক শান্তিই বাড়ায় না, বরং সারাদিন মনোযোগ ধরে রাখতে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, স্মার্টফোন আজকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়া জরুরি। দিনের শুরু যদি নোটিফিকেশন নয়, বরং নিজের শরীর ও মনের যত্ন দিয়ে হয়, তাহলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তবে উল্লেখ্য, কোর্টিসল ও ডোপামিনের পরিবর্তন, কিংবা সকালে ফোন ব্যবহারের প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই যদি এই অভ্যাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, মনোযোগের সমস্যা বা মানসিক ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।