বাড়ছে মেডিক্যাল ট্যুরিজম! ভিসা সহজ হতেই কলকাতার হাসপাতালে ফিরছেন বাংলাদেশিরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাড়ছে মেডিক্যাল ট্যুরিজম! ভিসা সহজ হতেই কলকাতার হাসপাতালে ফিরছেন বাংলাদেশিরা

Spread the love

কলকাতা: দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের নিয়মিত পর্যটক ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার পর কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে (Kolkata Hospitals) আবারও বাড়তে শুরু করেছে…

কলকাতা: দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের নিয়মিত পর্যটক ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার পর কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে (Kolkata Hospitals) আবারও বাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা কলকাতার মেডিক্যাল ট্যুরিজম শিল্পে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের পর ভারত ভ্রমণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর ফলে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে যায়। বহু হাসপাতালের আয়ের একটি বড় অংশই আগে বাংলাদেশি রোগীদের উপর নির্ভরশীল ছিল। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিধিনিষেধের আগে অনেক বেসরকারি হাসপাতালের মোট আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা থেকে।

চলতি বছরের ২৮ জুন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলিতে (IVAC) নিয়মিত পর্যটক ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। পরিষেবা শুরুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১.৪ লক্ষেরও বেশি পর্যটক ভিসার আবেদন জমা পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এর আগে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিক্যাল ভিসা মূলত জরুরি বা মানবিক কারণেই অনুমোদিত হতো। তবে পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসার অনুমোদনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কলকাতার হাসপাতালগুলিতে।

ডিসান হাসপাতাল জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহে কলকাতা ও শিলিগুড়ি ইউনিট মিলিয়ে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত দুই বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। তাঁর কথায়, নিয়মিত ভিসা পরিষেবা চালু হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য রোগীদের আসা অনেক সহজ হয়েছে এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজমও গতি পেয়েছে।

একই ধরনের ছবি দেখা যাচ্ছে আরএন টেগোর হাসপাতালেও। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২,২০০ জন বহির্বিভাগের (ওপিডি) রোগী এবং ২০০ জন ভর্তি রোগী চিকিৎসার জন্য আসতেন। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাসে ২০ জনেরও কমে। এখন পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে। নারায়ণা হেলথ (ইস্ট)-এর চিফ অপারেটিং অফিসার আর. ভেঙ্কটেশ জানান, গত তিন থেকে চার সপ্তাহে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৪ সালে ভিসা বিধিনিষেধের পর সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।

মণিপাল হাসপাতালস-এর পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক অধিকর্তা অয়নাভ দেবগুপ্তও একই প্রবণতার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ থেকে রোগীর আগমন দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী দুই সপ্তাহে এই সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অন্যদিকে পিয়ারলেস হাসপাতাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার আগে প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে গড়ে ১৫০ জন বহির্বিভাগের রোগী আসতেন। পরে সেই সংখ্যা কমে ১০ জনেরও নিচে নেমে যায়। বর্তমানে আবার প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন। হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র বলেন, জুন মাস থেকে পর্যটক ভিসার অনুমোদন শুরু হওয়ার পর থেকেই রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

চিকিৎসা পরিষেবা, ভাষাগত সুবিধা, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং তুলনামূলকভাবে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি রোগীদের কাছে কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। হাসপাতালগুলির আশা, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসবেন, যা শুধু হাসপাতালগুলির নয়, শহরের সামগ্রিক মেডিক্যাল ট্যুরিজম খাতকেও আরও শক্তিশালী করবে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *