যুদ্ধ থামিয়ে বড় কূটনীতি! ইরানের সঙ্গে টেবিলে বসছেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণ থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং…
ওয়াশিংটন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণ থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে তেহরানকে নিবৃত করার লক্ষ্যে সোমবার বিকেলেই ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আঞ্চলিক মিত্রদের বিশেষ অনুরোধেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার তরফে ইরানের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী আক্রমণের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে ফেলা হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌদি প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং কাতার সহ মার্কিন অংশীদাররা এই পরিকল্পনা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই মুহূর্তে সামরিক হামলা চালালে কূটনীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের সমস্ত সম্ভাবনা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আক্রমণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম। তবে আঞ্চলিক মিত্রদের বিশ্বাস, এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। আমরা হরমুজ প্রণালী এবং পরমাণু ইস্যু নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই।” আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়নি বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “আমরা কাউকে মারতে চাই না। যুদ্ধ এড়িয়ে কোনো ভালো চুক্তি বা বোঝাপড়া হয়ে গেলেই আমরা খুশি।”
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও মধ্যস্থতা
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন সামরিক আক্রমণ এড়াতে তারা কোনো পজ বা স্থগিতাদেশের অনুরোধ জানায়নি।
তবে এর মধ্যেই অন্য একটি কূটনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, তা বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর মতে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।
হুমকি ও কূটনীতির মিশ্র নীতি
কূটনৈতিক মহলের মতে, একদিকে চরম সামরিক হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব, এই দ্বির্মুখী নীতি বরাবরই ট্রাম্পের কার্যপদ্ধতির অংশ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তি বৈঠকে বসার কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে বিরল মুখোমুখি বৈঠক হলেও তা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন সোমবারের এই নতুন দফার আলোচনা আদতে কোনো স্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারে কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,