ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা আটকালেন কারা? আলোচনায় দুই মহিলা প্রশাসক - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা আটকালেন কারা? আলোচনায় দুই মহিলা প্রশাসক

Spread the love

বাবান আদক, কলকাতা: বিশ্বকাপ (World Cup) ফুটবল কি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পৈতৃক সম্পত্তি? টাকার লোভে ফুটবল নামক সুন্দর খেলাটির আত্মাকেই কি কর্পোরেট নিলামে তুলতে চেয়েছিলেন ফিফা…

বাবান আদক, কলকাতা: বিশ্বকাপ (World Cup) ফুটবল কি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পৈতৃক সম্পত্তি? টাকার লোভে ফুটবল নামক সুন্দর খেলাটির আত্মাকেই কি কর্পোরেট নিলামে তুলতে চেয়েছিলেন ফিফা সভাপতি? জুরিখের সদর দফতরে বসে কষা ইনফান্তিনোর সেই বিলিয়ন ডলারের বেসরকারিকরণের নির্লজ্জ ব্লু প্রিন্ট এবার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল। আর ফিফার এই একচ্ছত্র আধিপত্যের চাকায় যিনি সবচেয়ে বড় লাঠিটা গুঁজে দিলেন, তিনি কোনও পুরুষ কর্তা নন। উয়েফার দুই দাপুটে মহিলা প্রশাসকের কড়া ধমক আর প্রবল হুঙ্কারে রীতিমতো থরহরিকম্প ফিফা। বাধ্য হয়েই বিশ্বকাপ বিক্রির চরম হঠকারী পরিকল্পনা আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলতে হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাকে।

ফিফার এই কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিন বরাবরই সরব। কিন্তু উয়েফার অন্দরের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইনফান্তিনোকে কার্যত ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন দুই মহিলা লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার এবং লিসে ক্লেভনেস। জানা গিয়েছে, ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন রীতিমতো মাইক টেনে নেন উয়েফার ২১ সদস্যের কর্মসমিতির সহ-সভাপতি লরা। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই হঠকারী ছক বাস্তবায়িত হলে ফিফার সমস্ত প্রতিযোগিতা বয়কট করবে ইউরোপ! তাঁর এই রণংদেহি মেজাজের পাশে ঢালের মতো এসে দাঁড়ান নরওয়ে ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধি লিসে ক্লেভনেস।

দুই মহিলার যুগলবন্দির জেরে উয়েফার পাশাপাশি এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকাও বয়কটের দাবিতে একজোট হয়। প্রবল চাপে পড়ে অবিলম্বে নিজেদের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা।
ফুটবল প্রশাসনে লরা বা লিসে নিছকই ‘কোটা’ পূরণের মুখ নন। দু’জনেই প্রাক্তন ফুটবলার। ওয়েলসের জার্সিতে লরা এবং নরওয়ের হয়ে মহিলাদের ইউরো ফাইনালে খেলা লিসে, দু’জনেই জানেন মাঠে কীভাবে কড়া ট্যাকল করতে হয়। ১৯৯২ সালে এই লরার প্রবল চাপের মুখেই ওয়েলস ফুটবল সংস্থা মহিলাদের দলকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

অন্যদিকে, বুটজোড়া তুলে রেখে আইন নিয়ে পড়াশোনা করা লিসে ২০২২ সালে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে, নরওয়ে ফুটবল সংস্থার ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর এই প্রশাসনিক যোগ্যতার কদর করেই লরার উদ্যোগে উয়েফার কর্মসমিতিতে জায়গা পান তিনি।
কাতার বিশ্বকাপের মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক বা সৌদি আরবকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া কর্পোরেট অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই দুই অগ্নিকন্যা বরাবরই আপসহীন। বিশ্বকাপকে বাজারের পণ্যের মতো নিলামে তোলার অপচেষ্টা রুখে দিয়ে লরা এবং লিসে বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলের পবিত্রতা এখনও ইনফান্তিনোদের পকেটের টাকায় বিক্রি হয়ে যায়নি। আর সেই আত্মাকে কর্পোরেট শকুনদের হাত থেকে বাঁচানোর আসল রাশ এখন এই মহিলাদের হাতেই!

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *