আপনার ডেটিং লাইফে নাক গলায় বন্ধু? কী ভাবে সামলাবেন ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং?
ডেটে গিয়েছিলেন। ক্যাফে থেকে বেরিয়ে বাড়ির পথে সদ্য রওনা দিয়েছেন। মোবাইলে একের পর এক নোটিফিকেশন ঢুকছে। বন্ধুদের গ্রুপে আলোচনা পড়ে গিয়েছে আপনার নতুন পার্টনারকে নিয়ে। আপনিও সঙ্গে সঙ্গে ডেটে কী কী ঘটেছে, যাবতীয় তথ্য শেয়ার করে দিলেন। আর আপনি যতক্ষণে বাড়ি পৌঁছলেন, বন্ধুরা বলে দিল আপনার ডেটিং পার্টনার আসলে রেড ফ্ল্যাগ। আপনার জন্য একদম যোগ্য নয় সে। ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং-এর অংশ হয়ে উঠলেন আপনিও।
এক নজরে
-
ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং হলো বন্ধুদের প্রভাবে ডেটিং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
-
বন্ধুরা অনেক সময় পার্টনারকে বিচার করে সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।
-
প্রয়োজনের সময়ে বন্ধুদের পরামর্শ উপকারী হতে পারে।
-
অতিরিক্ত প্রভাব সুস্থ সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।
-
সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের সীমারেখা ও সিদ্ধান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং কী?
বন্ধুদের সঙ্গে জীবনের অনেক কথাই ভাগ করে নেন। তার মধ্যে ডেটিং লাইফ এবং পার্টনারও থাকে। কিন্তু ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং শুধু আপনার কথা শোনার বা উপদেশ দেওয়ার কাজ করে না। এখানে বন্ধুর আপনার হয়ে আপনার ডেটিং লাইফের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। অর্থাৎ, আপনি কার সঙ্গে ডেটে যাবেন, কার সঙ্গে ব্রেকআপ করবেন— সব সিদ্ধান্তই আপনার হয়ে আপনার বন্ধু নিয়ে নেয়।
কী ভাবে সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং?
বন্ধুদের মধ্যে কেউ সদ্য প্রেম করছে। তার এই নতুন সম্পর্কই বাকি বন্ধুদের কাছে গ্রুপ প্রজেক্ট পরিণত হয়েছে। বন্ধুর সঙ্গী কেমন, সে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী করছে, বন্ধুকে টেক্সট করছে, সব বিশ্লেষণ করছে বাকি বন্ধুর গ্রুপ। আর সেই বিশ্লেষণ থেকে গ্রুপই ঠিক করে নিচ্ছে তাদের বন্ধুর ওই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত নাকি ব্রেকআপ করে নেওয়া দরকার। শুধু তা-ই নয়, বন্ধু তার পার্টনারকে কী রিপ্লাই দেবে, কী ভাবে ব্রেকআপ করবে সেটাও ঠিক করে দিচ্ছে এই ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সাররাই।
ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং ভালো না খারাপ?
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং না ভালো, না খারাপ। কারণ বিপদে পড়লে এই বন্ধুরাই আপনাকে বাঁচাবে। যে কথা আপনি কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন না, সেগুলো শোনার জন্য আপনার বন্ধুই পাশে রয়েছে।
কিন্তু সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং। আপনি হয়তো সঙ্গীর সঙ্গে সুখেই রয়েছেন। কিন্তু বন্ধুদের মতামত আপনার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। আপনি জানেন সঙ্গী আপনার জন্য কতটা সঠিক ব্যক্তি। কিন্তু বন্ধুদের ইনফ্লুয়েন্সে আপনি তাঁর সঙ্গে ব্রেকআপ করে নিলেন। সুতরাং, ভালো-খারাপ উভয় দিক রয়েছে ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং-এ।
কী ভাবে এড়াবেন ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং-এর খারাপ দিক?
যে সম্পর্কে একটা সীমারেখা থাকা জরুরি। বন্ধুদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। সে বাউন্ডারি যাতে কোনও বন্ধুই অতিক্রম না করতে পারে, সেটা দেখা দায়িত্ব আপনারই। তা ছাড়া সম্পর্কের কোন বিষয় বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কোনটা নয়, সেটাও আপনাকে বুঝতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে কথা ভাগ করে নেওয়া দরকার। তাদের মতামত জানাও উচিত। কিন্তু আপনি জীবনে কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত একান্ত আপনার হওয়া উচিত।
FAQ
১. ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং কী?
বন্ধুদের মতামত বা প্রভাবের ভিত্তিতে নিজের ডেটিং বা সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং বলা হয়।
২. ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?
সোশ্যাল মিডিয়া, গ্রুপ চ্যাট এবং ডেটিং অভিজ্ঞতা বন্ধুদের সঙ্গে বেশি ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতার কারণে।
৩. ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিং কি সব সময় খারাপ?
না। বন্ধুদের পরামর্শ অনেক সময় বিপদ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিজের হওয়া উচিত।
৪. এতে সম্পর্কে কী সমস্যা হতে পারে?
বন্ধুদের মতামতের কারণে ভুল বোঝাবুঝি, অযথা সন্দেহ বা অপ্রয়োজনীয় ব্রেকআপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫. ফ্রেন্ডফ্লুয়েন্সিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব এড়াবেন কীভাবে?
সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয় সীমিতভাবে শেয়ার করুন, বন্ধুদের পরামর্শ শুনুন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিন নিজের বিচার-বিবেচনায়।