Terror Suspect Hamim Mondal: হাওড়ার পিলখানায় ঘর ভাড়া নিয়েছিল হামিম, চলত কারখানা… নতুন তথ্য উঠে আসছে এ বার
হাওড়ার পিলখানায় এ বার হামিম-যোগ! গত ৩০ জুলাই পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপের একটি জিম থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় হামিম মণ্ডলকে। বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয় সে। বাবা, মা, বোনকে নিয়ে বর্ধমানে মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে থাকত হামিম। ঘর ভাড়া নিয়ে পিলখানা এলাকায় কারখানাও চালাত। সেই ঘরের খোঁজ মিলল এ বার।
কোথায় এই কারখানা?
হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানা এলাকায় ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে এই দোকানের খোঁজ মিলেছে বলে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সূত্রে খবর। স্থানীয় বাসিন্দা শামিমা বেগম জানান, ৮-১০ মাস ধরে এখানে ঘর ভাড়া নিয়ে কাজ করত। তবে এক দু’বার দেখা গিয়েছে হামিমকে। মেশিন নিয়ে ঢুকতে দেখেছেন এলাকার লোকেরা। যদিও তা পেপারের মেশিন কি না, তা তাঁরা জানেন না। প্রিন্টিংয়ের কাজ, কার্ড, বারকোড তৈরির কাজ হতো সেখানে বলে খবর।
এক নজরে
-
হাওড়ার পিলখানায় জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের গোপন কারখানার হদিশ।
-
৩০ জুলাই বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ থেকে গ্রেপ্তার হয় হামিম।
-
গোলাবাড়ি থানার পিলখানা এলাকার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে অবস্থিত কারখানা।
-
প্রিন্টিং, কার্ড ও বারকোড তৈরির কাজ হতো সেখানে।
-
বছর দু’য়েক আগে হামিমের বাবা দু’টি ঘর ভাড়া নেন।
-
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই আসা বন্ধ করে দেয় হামিম।
-
শনিবার সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার।
বাড়ির মালিক মহম্মদ আলি সংবাদমাধ্যমে জানান, বছর দু’য়েক আগে হামিমের বাবা এই ঘর ভাড়া নেন। দু’টি ঘরের ভাড়া ১১ হাজার টাকা। নিয়মিত হামিম এই কারখানায় যাতায়াত করত। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এখানে আসা বন্ধ করে দেয় হামিম। বর্ধমানে হামিমদের বাড়ি আছে, সেখানে চলে যায় তারা।
বাড়ির মালিকের কী বক্তব্য?
মহম্মদ আলির কথায়, ‘এই কারখানায় তিন জন লোক কাজ করত। হামিম মাঝেমধ্যে আসত। হামিমকে আমি খুব একটা চিনি না। তবে ওর বাবা ভালো লোক। বর্ধমানে ওদের নিজেদের বাড়ি।’ হাওড়ার পিলখানা থেকে একেবারে বর্ধমানের অভিজাত রেনেসাঁ টাউনশিপে চলে যায় হামিমরা। কী ভাবে এত টাকা এল, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে পিলখানা এলাকার বাসিন্দাদের। তাঁরা ভাবতেই পারছেন না, হামিম জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
মারাত্মক অভিযোগ রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর
রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ও উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাইয়ের ছেলেকে ‘হানি ট্র্যাপ’-এ ফাঁসানোর চেষ্টা ও অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও এসটিএফ তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই হামিম গ্রেপ্তার কি না তা অবশ্য পরিষ্কার জানা যায়নি। তবে হামিমের এক বান্ধবী ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে।
গ্রেপ্তার বান্ধবীও
শনিবার ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতা সরকার নামে সেই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং কোনও বৃহত্তর চক্র এর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।