Purba Bardhaman: সমবায় সমিতিতে আর্থিক লেনদেনে গড়মিল, ক্যাশিয়ারের বাড়িতে বিক্ষোভ | Depositors Lock Cooperative Society in Purba Bardhaman, Demand Refund of Savings Amid Alleged Financial Irregularities
ক্যাশিয়ারের বাড়িতে বিক্ষোভImage Credit: TV9 Bangla
বর্ধমান: টাকা ফেরতের দাবিতে সমবায় সমিতিতে ফের তালা। ম্যানেজার-ক্যাশিয়ারের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখালেন আমানতকারীরা। বিপুল অঙ্কের আর্থিক তছরূপের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সমবায় সমিতির আর্থিক লেনদেন। জমানো টাকা ফেরতের দাবিতে ফের সমবায় সমিতিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন আমানতকারীরা। পরে সমবায় সমিতির ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারের বাড়িতেও গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রাহকরা। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড়ের গ্রামডিহি এলাকার সাহেবগঞ্জ ২ নম্বর এসকেইউএস লিমিটেড সমবায় সমিতির।
জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে ওই সমবায় সমিতিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর অডিট শুরু হলেও প্রায় এক বছর ধরে সমিতির আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে প্রয়োজনের সময় নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তুলতে পারছেন না আমানতকারীরা।
গ্রাহকদের দাবি, গ্রামডিহি, আইমাপাড়া ও মান্দারবাটি-সহ একাধিক গ্রামের প্রায় ৭০ জন আমানতকারীর সেভিংস অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২১ লক্ষ টাকা আটকে রয়েছে। কয়েক মাস ধরে সমবায় সমিতির ম্যানেজার তাপস সেন ও ক্যাশিয়ার অভিজিৎ পালের কোনও খোঁজ মিলছে না বলেও অভিযোগ। বর্তমানে শুধু রেশন পরিষেবা চালু থাকলেও সমস্ত আর্থিক পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন গ্রাহকরা।
এর আগেও টাকা ফেরতের দাবিতে সমবায় সমিতিতে তালা ঝুলিয়েছিলেন আমানতকারীরা। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় গত শনিবার ফের সমবায় সমিতিতে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। রবিবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে যান বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অরিন্দম ঘোষ-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। আমানতকারীরা তাঁদের সামনে নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
পরে ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারের দেখা না মেলায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি নেতা অরিন্দম ঘোষ। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অরিন্দম ঘোষ বলেন, “সমবায় সমিতিতে এত বড় আর্থিক দুর্নীতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমানতকারীদের জমানো অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে হবে। পরিবারের সদস্যরা এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। এরপরও সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আমানতকারীদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জমানো অর্থ ফেরত দেওয়া হোক।