ক্ষমা চাইলেন অভিযুক্ত তরুণী, ছাত্রদের ক্ষমা করার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৩ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে অবমাননাকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের…
নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৩ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে অবমাননাকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে ওই তরুণীকে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, হাত জোড় করে অনুতপ্ত ভঙ্গিতে তরুণী বলছপেন, “আমি ওই মানুষগুলোর প্ররোচনায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি যা করেছি তা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি অনেক খারাপ কথা বলে এটিকে আমার প্রথম এবং শেষ ভুল বলে মনে করছি।” দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি ভীষণ লজ্জিত। নিজের দিকে তাকাতেও পারছি না। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিক্রিয়া
তরুণীর এই ভিডিওটি সামনে আসার ঠিক আগেই, শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বিক্ষোভের সময় তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে যে অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তবে একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী এবং জানান যে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের তদন্ত
গত ২৩ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভের ঘটনায় অবমাননাকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গত ২৯ জুলাই নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর (Zero FIR) দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী পদের মর্যাদাকে খর্ব করার এবং অসন্তোষ তৈরি করে জনশান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায় মামলা রুজু করার পর জিরো এফআইআরটি দিল্লির সংসদ স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। তদন্তের অঙ্গ হিসেবে পুলিশ নয়ডার যে আবাসনটিতে ওই তরুণী তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন, সেখানে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। তবে জানা গিয়েছে, যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর থেকেই ওই ফ্ল্যাটটি তালাবন্ধ রয়েছে এবং তিনি সেখানে ফেরেননি।
সিজিপি-র প্রতিক্রিয়া
এই এফআইআর-এর তীব্র সমালোচনা করেছে বিক্ষোভের আয়োজন করা সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আপত্তিকর বা অবমাননাকর ভাষার সমর্থন করা যায় না, তবে এই ধরনের মন্তব্যের জেরে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করলে তা বাকস্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষগুলির মানহানির মামলা করা উচিত ছিল বলে মত প্রকাশ করেছে সিজিপি।
অগাস্টের শুরুতেই সস্তা হল LPG, কলকাতায় কত হল দাম?
‘গালাগালি কখনও সমাধান নয়’, নতুন ইনস্টাগ্রাম ভিডিওয় বার্তা মোদীর