Astrological beliefs: বিড়াল রাস্তা কাটলে কী সত্যিই অমঙ্গল হয়? কী রয়েছে জ্যোতিষশাস্ত্রে? | Cat Crossing Road in Astrology: Myths, Rahu Ketu Effects, and Astrological Beliefs Explained - 24 Ghanta Bangla News
Home

Astrological beliefs: বিড়াল রাস্তা কাটলে কী সত্যিই অমঙ্গল হয়? কী রয়েছে জ্যোতিষশাস্ত্রে? | Cat Crossing Road in Astrology: Myths, Rahu Ketu Effects, and Astrological Beliefs Explained

Spread the love

কী বলছেন জ্যোতিষবিদরা?Image Credit: Getty Images

অফিস, পরীক্ষা বা কাজের জায়গায় যাওয়ার জন্য খুব তাড়া রয়েছে। বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ করেই চোখের সামনে দিয়ে এক লাফে রাস্তা পার হয়ে গেল একটা বিড়াল! ব্যাস, আর যায় কোথায়! যত জরুরি কাজই থাকুক না কেন, আপনার মনের অজান্তেই পা দুটো যেন থমকে দাঁড়ায়। আপনি থমকে যান, একটু অপেক্ষা করেন, বা লোকজনকে আগে যেতে দেন। যুগ যুগ ধরে এই দৃশ্যটা আমাদের চারপাশে খুব চেনা। কিন্তু প্রশ্ন হল, একটা সাধারণ প্রাণী রাস্তা পার হলে আমরা এত ভয় পাই কেন? এর পেছনে আসল রহস্যটা ঠিক কী?

লোকবিশ্বাস আর জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, বিড়াল রাস্তা পার হলে সেই পথ দিয়ে যাওয়া মানুষের ওপর একটা অশুভ ছায়া পড়ে। তবে সব বিড়ালের ক্ষেত্রে এই ভয় সমান নয়, বিশেষ করে কালো বিড়ালের নাম শুনলেই যেন মানুষের মনের ভেতর একটা আলাদা আতঙ্ক তৈরি হয়।

জ্যোতিষ মতে, বিড়ালকে রাহু আর কেতু, এই দুটি ছায়াগ্রহের সংকেত বা প্রতীক বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে কালো বিড়ালকে সরাসরি রাহুর প্রভাবের সাথে যুক্ত বলে ধরা হয়। জ্যোতিষীদের মতে, রাহু আর কেতু হলো এমন দুটি শক্তি যা মানুষের জীবনে হঠাৎ বাধা, কাজের ক্ষতি বা অ্যাক্সিডেন্টের সংকেত নিয়ে আসে। তাই চলার পথে বিড়াল রাস্তা কেটে গেলে বিশ্বাস করা হয় যে, ওই ব্যক্তির ওপর রাহু বা কেতুর কুদৃষ্টি পড়ছে। এর ফলে শুধু কাজের ক্ষতি নয়, পরিবারের মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে, আবার অযথা মাথা গরম করার অভ্যাসও বাড়তে পারে।

শুধু যে রাহু-কেতু তা কিন্তু নয়! এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেবী অলক্ষ্মীর প্রসঙ্গও। আমাদের সনাতন ধর্মে ধনসম্পদ আর সুখের দেবী হলেন লক্ষ্মী। আর তাঁর ঠিক বিপরীত রূপ হলেন দেবী অলক্ষ্মী, যাকে দুর্ভাগ্য, অভাব আর দারিদ্র্যের দেবী বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দেবী অলক্ষ্মীর বাহন বা সওয়ারি হলো কালো বিড়াল। তাই যাত্রাপথে হঠাৎ কালো বিড়াল সামনে আসা মানে অনেকে মনে করেন, অলক্ষ্মীর অশুভ চোখ আপনার ওপর পড়েছে বা সামনে কোনও বড় বিপদ আসছে।

এছাড়া, কোনও ভালো বা শুভ কাজে বেরোনোর সময় যদি বিড়াল হঠাৎ পথ আটকে দেয়, তবে সেই কাজটি সফল হতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। বলা হয়ে থাকে, বিড়াল নাকি আমাদের আশেপাশের পজিটিভ বা ভালো শক্তির প্রবাহকে এক লহমায় নষ্ট করে দেয়। ফলে যে কাজটি সহজভাবে হয়ে যাওয়ার কথা, সেটা আটকে যায় বা অকারণে দেরি হতে থাকে।

শুধু রাস্তার বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও বিড়ালের আসা-যাওয়া নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। জ্যোতিষ মতে, কোনও বিড়াল যদি হঠাৎ ঘরের ভেতর ঢুকে অনবরত কান্না বা চিৎকার করতে থাকে, তবে সেটা নাকি গৃহবিবাদ বা পরিবারের মানুষের মধ্যে বড় ভুল বোঝাবুঝির আগাম খবর দেয়। আবার বাড়িতে হঠাৎ বিড়ালের উৎপাত খুব বেড়ে গেলে, কিংবা রান্নাঘরের দুধ ও খাবার বারবার নষ্ট করে দিলে তাকেও অলক্ষ্মীর প্রভাব বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে ঘরে জমে থাকা টাকা-পয়সা দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে,বা বড় কোনও আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞান এসব সংস্কারকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিলেও, সাধারণ মানুষের মন থেকে আজও এই ভয়ের রেশ পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *