India Post Tariff: ১ অগস্ট থেকে ইন্ডিয়া পোস্টে বড় বদল! আলাদা করে গুনতে হবে পার্সেল-ডকুমেন্টের খরচ | Big News, India Post Introduce New Tariff on Speed Post, Separate Document & Percel Category & Charges - 24 Ghanta Bangla News
Home

India Post Tariff: ১ অগস্ট থেকে ইন্ডিয়া পোস্টে বড় বদল! আলাদা করে গুনতে হবে পার্সেল-ডকুমেন্টের খরচ | Big News, India Post Introduce New Tariff on Speed Post, Separate Document & Percel Category & Charges

Spread the love

ইন্ডিয়া পোস্টের নতুন নিয়ম।Image Credit: PTI

নয়া দিল্লি: ডাক ব্যবস্থায় আসছে বিরাট বদল। আগামী ১ অগস্ট থেকে ইন্ডিয়া পোস্টের (India Post) পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসছে। চিঠি, সরকারি নথি বা অন্য কোনও জিনিস ডাকযোগে পাঠানোর ক্ষেত্রে এবার থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনটি ‘ডকুমেন্ট’ (Document) বা নথি এবং কোনটি ‘পার্সেল’ (Parcel) হিসেবে গণ্য হবে। এতদিন এই বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম না থাকায়, অনেক গ্রাহককেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডাক মাশুল দিতে হত। নতুন নিয়মে সেই সমস্যারই সমাধান করতে চাইছে ডাক বিভাগ। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার স্পিড পোস্ট (Speed Post) এবং ৪৮ ঘণ্টার স্পিড পোস্ট পরিষেবার নতুন নির্দেশিকা ও চার্জও প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া পোস্ট। খুচরো গ্রাহকদের জন্য পুরনো চার্জে বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও, বাল্ক বা পাইকারি গ্রাহকদের জন্য নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোন কোন জিনিস ‘ডকুমেন্ট’ হিসেবে ধরা হবে?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব জিনিসের কোনও বাণিজ্যিক মূল্য (Commercial Value) নেই, সেগুলিকে ডকুমেন্ট হিসেবে ধরা হবে।

এর মধ্যে থাকবে—

  • সাধারণ চিঠি
  • মুদ্রিত কাগজপত্র (Printed Materials)
  • সরকারি ও অফিসিয়াল নথি
  • ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাঠানো বিভিন্ন নথি

ব্যাঙ্ক ও আর্থিক পরিষেবার (BFSI) আওতায় থাকা যেসব জিনিস ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে-

  • ওয়েলকাম কিট
  • পাসবুক
  • চেকবুক
  • ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট
  • ডেবিট কার্ড
  • ক্রেডিট কার্ড
  • ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাঠানো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি

এছাড়াও সরকারি পরিচয়পত্রগুলিও ডকুমেন্ট হিসেবে ধরা হবে। যেমন—

  • আধার কার্ড
  • প্যান কার্ড
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • পাসপোর্ট
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স

ডাক বিভাগ আরও জানিয়েছে, ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের অ-বাণিজ্যিক খাম বা প্যাকেটও ডকুমেন্ট হিসেবে পাঠানো যাবে। অর্থাৎ—

  • রাখির খাম
  • শুভেচ্ছা কার্ড
  • ব্যক্তিগত চিঠি
  • অন্যান্য ব্যক্তিগত অ-বাণিজ্যিক কাগজপত্র

এই জিনিসগুলি আর পার্সেল হিসাবে ধরা হবে না।

তবে যে কোনও বিক্রিযোগ্য পণ্য, ব্যবসায়িক সামগ্রী বা বাণিজ্যিক মূল্য রয়েছে, এমন জিনিস এবার থেকে শুধুমাত্র পার্সেল হিসাবেই পাঠাতে হবে।

কেন এই নতুন নিয়ম চালু করল ইন্ডিয়া পোস্ট?

এতদিন ডকুমেন্ট ও পার্সেলের মধ্যে স্পষ্ট কোনও বিভাজন ছিল না। ফলে ডাকঘরে বুকিংয়ের সময় অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি তৈরি হত। এমনকি সাধারণ নথিও অনেক সময় পার্সেল হিসেবে বুক হওয়ায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হত।

নতুন নিয়ম চালুর ফলে—

  • ডাকমাশুলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে।
  • গ্রাহকদের অযথা বেশি টাকা দিতে হবে না।
  • ডাকঘরে ডকুমেন্ট ও পার্সেল নিয়ে সমস্যা কমবে।
  • এছাড়া ব্যাঙ্ক, বিমা সংস্থা, সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং যেসব সংস্থা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নথি ডাকযোগে পাঠায়, তাদেরও সুবিধা হবে বলে মনে করছে ডাক বিভাগ।

স্পিড পোস্টে কত টাকা লাগবে?

২৪ ঘণ্টার স্পিড পোস্টে  খুচরো গ্রাহকদের (Retail Customers) জন্য আগের তুলনায় বড় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডকুমেন্টের জন্য স্থানীয় এলাকায় ডেলিভারিতে  ৩৮ টাকা এবং দেশের অন্য প্রান্তে ৯৪ টাকা ও  জিএসটি লাগবে।  ৫১-২৫০ গ্রাম ওজনের ডকুমেন্টের জন্য ১১৮ টাকা থেকে ১৫৪ টাকা, ২৫১-৫০০ গ্রামের ডকুমেন্টের জন্য ১৪০ টাকা থেকে ১৮৬ টাকা লাগবে।  ওজন ও গন্তব্য অনুযায়ী চার্জ পরিবর্তিত হবে।

যেসব সংস্থা একসঙ্গে অনেক নথি পাঠায়, তাদের জন্য আলাদা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার স্পিড পোস্টে ৩৮ টাকা থেকে ১০০ টাকা লাগবে।  ৪৮ ঘণ্টার স্পিড পোস্টের খরচ পড়বে  ৪৮ টাকা থেকে ৭২ টাকা।

খুচরো গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার স্পিড পোস্টে প্রতি প্যাকেটের জন্য ৬১ টাকা থেকে ১২১ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে। এখানেও ওজন ও গন্তব্য অনুযায়ী চার্জ নির্ধারণ করা হবে।

কোথায় পাওয়া যাবে এই পরিষেবা?

বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার স্পিড পোস্ট এবং ৪৮ ঘণ্টার স্পিড পোস্ট পরিষেবা দেশের মাত্র ছয়টি শহরে চালু রয়েছে। সেগুলি হল—

  • দিল্লি
  • মুম্বই
  • কলকাতা
  • চেন্নাই
  • বেঙ্গালুরু
  • হায়দরাবাদ

ভবিষ্যতে আরও শহরে এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া পোস্ট।

গ্রাহকদের কী সুবিধা হবে?

নতুন নিয়ম চালুর পর গ্রাহকরা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন জিনিস ডকুমেন্ট হিসেবে পাঠানো যাবে এবং কোনটি পার্সেল হিসেবে পাঠাতে হবে। ফলে ডাকঘরে অযথা বিভ্রান্তি কমবে এবং অ-বাণিজ্যিক নথির জন্য অতিরিক্ত পার্সেল চার্জও দিতে হবে না। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক, বিমা সংস্থা, সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বড় সংস্থাগুলির জন্য এই নতুন ব্যবস্থা ডাক পরিষেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *