শিল্পীর ঘরানায় প্রাধান্য পেয়েছে সুর এবং রাগ-রস
বিপ্লবকুমার ঘোষ
নজর কেড়েছে কণ্ঠসঙ্গীতের সঙ্গে ভায়োলিনের সাথ-সঙ্গতও। এই প্রজন্মের উদীয়মান শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘ভি জি যোগ ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ রিসাইটাল ২০২৬’। বিদূষী রুচিরা পাণ্ডা, উস্তাদ ওয়াসিম আহমেদ খান এবং উস্তাদ আরশাদ আলি খান-এর কাছে তালিমপ্রাপ্ত ফাউন্ডেশনের ভায়োলিন স্কলারদের একক পরিবেশনা তো ছিলই। এ ছাড়াও ছিল কণ্ঠসঙ্গীতের সঙ্গে ভায়োলিনের সাথ-সঙ্গত, যা অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য ও বড় আকর্ষণ। এ দিন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাজীব দুগার অনুষ্ঠানের শুভ-সূচনা করলেন।
শুরুতেই ছিল অর্কদ্যুতি হালদারের ভায়োলিনে রাগ ভীমপলাশীর একক পরিবেশনা। তবলায় ছিলেন নবাগত ভট্টাচার্য। খুব সুন্দর আলাপের পর বিলম্বিত একতালে খেয়াল শুরু করলেন তিনি। তারসপ্তকে, একাধিক স্থানে স্বরচ্যুতি শ্রুতিগোচর হয়েছে। পরে শ্রীজা হালদার পরিবেশন করলেন রাগ পুরিয়া ধ্যানেশ্রী। শিল্পীর সঙ্গে ভায়োলিনে অর্কদ্যুতি ও তবলায় অনির্বাণ দাশগুপ্ত। ভায়োলিনের সাথ-সঙ্গতে রাগদারির পরিচয় তুলনামূলক ভাবে স্পষ্ট হলেও দ্রুত লয়ে সেখানে স্বরের স্থিতি সর্বদা বজায় থাকেনি।
ঐন্দ্রি মুখোপাধ্যায় একক বাদনের জন্য হংসধ্বনি রাগ নির্বাচন করেছিলেন। খেয়াল অঙ্গের পরিবেশনায় শুরুতে ছিল একটি সংক্ষিপ্ত আলাপ। পরে ঝাপতালে তাঁর ঘরানার বন্দিশে বিলম্বিত, এক মনোযোগী বিস্তার, সুর ও রসের এবং গায়কি অঙ্গের মাধ্যমে রাগের সুচিন্তিত বিস্তার ঘটালেন। যা প্রশংসার দাবি রাখে। এরপরে তাঁর বাজনায় পাওয়া গেল ছোট-ছোট লয়ের কাজ। যা বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। দ্রুত তিনতালেও ঘরানার বন্দিশ বাজালেন। সঙ্গে নানা ছন্দ ও লয়ের তান ও তিহাই।
পরবর্তী অংশে কণ্ঠসঙ্গীত, বিলম্বিত একতাল ও দ্রুত একতালে উপাসনা কর রাগ ইমন পরিবেশন করলেন। সঙ্গে ঐন্দ্রি-র বেহালা সঙ্গত। তাঁর বাদনে একটা নিজস্বতাও রয়েছে। দু’টি অনুষ্ঠানেই তবলা সঙ্গত করলেন নবাগত ভট্টাচার্য। এ দিনের তৃতীয় শিল্পী ছিলেন সৌপর্ণ ঘোষ। অনুষ্ঠানে তিনি একক বেহালা বাদনে নন্দ-রাগ পরিবেশন করলেন। বিলম্বিত ও দ্রুত তিনতালে তাঁর পরিবেশনে পরিলক্ষিত হয়েছিল সুস্পষ্ট তালিমের আভাস। সুবিন্যস্ত তাঁর রাগ-বিস্তার, মেজাজ ও পরবর্তীতে এক পরিচ্ছন্ন তানকারি তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই পরিবেশন করেছেন। শুধুমাত্র দ্রুত লয়ে ও ঝালায় বেশ কিছু জায়গায় শিল্পীর সুরের বিচ্যুতি ছিল।
সন্ধ্যার শেষ শিল্পী ছিলেন কণ্ঠসঙ্গীতের আগ্রা ঘরানার সতানিক চট্টোপাধ্যায়। ঘরানার শৈলিতে নোম-তোম আলাপের পরে বিলম্বিত একতাল ও দ্রুত তিনতালের বন্দিশ বিস্তার, বোল ও আকার তানের মধ্য দিয়ে রাগটি সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুললেন। বেহালায় ছিলেন সৌপর্ণ। সঙ্গতের শেষ দিকে কিছুটা সুরের বিচ্যুতি ছাড়া অনুষ্ঠানটি খুবই মনোগ্রাহী হয়েছিল।