বঙ্গভবন ছেড়ে দিতেই অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন! কী অভিযোগ?
এই সময়, ঢাকা: শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রবিবার বঙ্গভবন ছেড়ে তখনও নিজের গুলশনের বাড়িতে ওঠেননি। তার আগেই আর এক প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি)-এর চিফ প্রসিকিউটর দপ্তরে হাজির হলেন বিশেষ মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা ‘বাংলাদেশ আজাদি পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামের দু’টি সংগঠনের নেতারা।
রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ সপরিবার বঙ্গভবন ছাড়েন সাহাবুদ্দিন। আর আগে ওই দিনই চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করে আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট পর্যন্ত ‘বহু লোককে হত্যা ও গুম করা হলেও’ একটি ঘটনারও প্রতিবাদ করেননি প্রাক্তন এই দুই রাষ্ট্রপতি। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন ও সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। তাই প্রাক্তন দুই রাষ্ট্রপতি এ সব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না। রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম-এর নেতা আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফার দাবিতে গড়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ায় ইউনূস জমানাতেই গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে (অধ্যাপক) ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে তাঁকে বাসস্ট্যান্ড থেকে গুম করা হয়। পরের দিন ১৯ জানুয়ারি ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যায় গুমকারীরা।
এ দিন এক ব্রিফিংয়ে তারেক সরকারের দুই মন্ত্রী জানিয়েছেন, সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে আমলে নেওয়ার মতো কিছু নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এনসিপি-সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে, এ বিষয়ে আপাতত সরকারের কাছে আমলে নেওয়ার মতো কোনও উপাদান নেই বলে জানান তিনি। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পদ ছেড়ে দেওয়ার পরেও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির রক্ষাকবচ থাকে। সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তাঁর।’
এ দিন কক্সবাজার ও সাভারের আলাদা দু’টো হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিটি। ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পুর কাউন্সিলর ও যুবলিগ নেতা একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী-সহ ১১ জনকে আসামি করে এ দিন আইঅসিটি-তে অভিযোগ করে প্রসিকিউশন। এই মামলার সঙ্গে ২০২৪–এ সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ি থেকে ফেলে এক জনকে হত্যার অভিযোগেও আইসিটি এ দিন আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।