ঘরে কীটনাশক ছড়ানোয় বিপত্তি? রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দুর্গাপুরের হাসপাতালে
দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। ফুসফুস আক্রান্ত রোগীর ঘরে জীবাণুনাশক রাসায়নিক দেওয়ার কারণে মৃত্যু বলে দাবি পরিবারের। রোগী মৃত্যুর পরে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় পরিবারের সদস্যরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, বেনাচিতি এলাকার ধুনরাপ্লটের বাসিন্দা রাজকুমার মণ্ডলের শরীরে দু’টি ফুসফুসের মধ্যে একটি অকেজো। একটি ফুসফুস কাজ করে। সেই সংক্রান্ত অসুবিধার জন্য তাঁকে ন’দিন আগে সিটিসেন্টার অঞ্চলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন রাজকুমার। গত ২৪ জুলাই তাঁকে ছুটি দিয়ে দেন ডাক্তার। কিন্তু চিকিৎসা বিমা সংক্রান্ত সমস্যার জন্য রাজকুমারকে ছুটি দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২৪ তারিখ সকালে রাজকুমার যে ওয়ার্ডে ছিলেন, সেখানে পেস্ট কন্ট্রোল করা হয়।
রোগীর পরিবারের দাবি, এর জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজকুমার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে আইসিইউতে ঢোকানো হয় রাজকুমারকে। পরে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। রবিবার সকালে মৃত্যু হয় রাজকুমারের। মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজকুমারের ছেলে সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘পেস্ট কন্ট্রোল করার পরে বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এটা মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগী সুস্থ হয়েছিল বলেই তো ছুটি দিয়েছিলেন ডাক্তার। তাহলে ফের কী করে অসুস্থ হলো বাবা?’ হাসপাতালে তরফে জিএম অপারেশন শিল্পী স্বর বলেন, ‘রোগীর একটা ফুসফুস কাজ করছিল। আর একটা বিকল হয়ে গিয়েছে। ওই অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন রোগী। পেস্ট কন্ট্রোল করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তার জন্য রোগীর মৃত্যু হয়নি। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জন্য মৃত্যু হয়েছে।’