রাখি পূর্ণিমার দিনেই বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ, ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধা যাবে?
অগস্ট মাস জ্যোতিষশাস্ত্রের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ঘটতে চলেছে বছরের দুটি গ্রহণ। প্রথমে সূর্যগ্রহণ এবং তারপর ২৮ অগস্ট হবে বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ। তার উপর এই বছরের চন্দ্রগ্রহণ পড়ছে শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিতে। এই দিনেই পালিত হয় রাখিবন্ধন উৎসব। তাই অনেকেরই প্রশ্ন, গ্রহণের দিনে রাখি বাঁধা বা পূর্ণিমার পুজো-পাঠ করা যাবে কি?
কোন রাশি ও নক্ষত্রে হবে চন্দ্রগ্রহণ?

জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ২৮ অগস্ট ২০২৬-এর চন্দ্রগ্রহণ কুম্ভ রাশি ও শতভিষা নক্ষত্রে সংঘটিত হবে। কুম্ভ রাশি এবং শতভিষা নক্ষত্র— উভয়েরই অধিপতি গ্রহ শনি। একই সময়ে সূর্য সিংহ রাশিতে কেতুর সঙ্গে অবস্থান করবে। এই বিশেষ গ্রহগত অবস্থান সব রাশির উপর কিছু না কিছু প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন ৫ রাশিকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে?

জ্যোতিষীদের মতে, এই চন্দ্রগ্রহণের সময় কর্কট, সিংহ, বৃশ্চিক, মকর এবং কুম্ভ রাশির জাতকদের বেশি সতর্ক থাকা উচিত।
এই সময় মানসিক চাপ, অনিদ্রা, বিভ্রান্তি, সিদ্ধান্তহীনতা কিংবা আর্থিক ক্ষতির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। তাই গ্রহণের দিন এবং তার আশপাশের কয়েক দিন বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, নতুন উদ্যোগ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার আগে ভালো ভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিন। পাশাপাশি ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখা, মন্ত্রজপ, ধ্যান বা প্রার্থনার মতো আধ্যাত্মিক অনুশীলন করাও উপকারী বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারত থেকে কি দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ?

ভারতীয় সময় অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ২৮ অগস্ট সকাল ৬টা ৫৩ মিনিটে। শেষ হবে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে। গ্রহণের মোট সময়কাল ৫ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট। তবে গ্রহণের সময় ভারতে দিনের আলো থাকবে। সেই কারণে এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না। যেহেতু এই গ্রহণ ভারতে দেখা যাবে না, তাই সূতক কাল কার্যকর হবে না।
তাই রাখি বাঁধা, শ্রাবণ পূর্ণিমার স্নান-দান, পুজো-পাঠ এবং অন্যান্য শুভ কাজে কোনও বাধা নেই। তা স্বাভাবিক ভাবেই করা যাবে বলে বিশ্বাস।
কোন কোন দেশ থেকে দেখা যাবে গ্রহণ?

এই চন্দ্রগ্রহণ মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে।