একুশের মঞ্চ, নিঃসঙ্গ মমতা ও ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে সঞ্জয় বসুর বিশ্লেষণ
আজ যে সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা তৃণমূলে ‘পিসি–ভাইপো’র পরিবারতান্ত্রিকতার ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিদ্রোহ করেছেন, ভোটের ফল উল্টো হলে হয়তো তাঁরা এই কালীঘাট-কেন্দ্রিক নেতৃত্বকেই ‘ভবিতব্য’ বলে মেনে নিতেন। কিন্তু সময় যে বড় নির্মম। আজ বিভিন্ন স্তরে জমে থাকা সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ হচ্ছে দলের অন্দরে। এখনও কি দেওয়ালের লিখন
পড়তে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা?
তৃণমূলের দীর্ঘ দিনের যে নেতারা চোখে আঙুল দিয়ে পরাজয়ের কারণগুলি দেখানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘গদ্দার’, ‘বেইমান’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন। শারীরিক ভাষায় সেই ঔদ্ধত্য আজও আসে কোন সাহসে? ভেঙে টুকরো হয়ে যাওয়া একুশের মঞ্চ থেকে তর্জনী উঁচিয়ে তুই–তোকারি করার সেই ট্র্যাডিশনই বা চালিয়ে যাচ্ছেন কীসের জোরে? আয়নার সামনে ফেলে নিজেদের ভুল–ত্রুটি খুঁজে বের করে বিনয়ী ভাবে তাকে গ্রহণ করার সততা দেখানোর বদলে এখনও গাজোয়ারি করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন? আপনাদের মনে হয় না যে, এই ভোটের ফল শুধু একটি সরকারের বদল নয়, আমিত্ব–নির্ভর দম্ভের মূলে কশাঘাত? বুঝতে পারছেন না, যে ভাবে নিচুতলার নেতা–কর্মীদের মনের কথাকে উপেক্ষা করেছেন, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের নির্লজ্জ চেষ্টা চালিয়েছেন, আজ তারই মাশুল দিতে হচ্ছে তৃণমূলকে? ঠিক যে ভুলটা ২০০৬–এ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২৩৫–৩০ ফল দেখে করেছিলেন। তলে তলে আপনার দলের নিচুতলায় যে এত ক্ষয় হয়েছে, প্রশাসনের অন্দরের একাংশে ঘুণ ধরেছে এবং আপনি, আপনার ভাইপো ও আপনার অনুগামী কিছু নেতা–মন্ত্রীর ‘আমিত্ব’-এর বড়াইয়ে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও যে প্রভাব পড়ছে, সেটা আপনি ধরতে পারেননি। ‘এই সময় সংবাদপত্র’ সেই পাবলিক পালস, আমজনতার মনের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে আয়নার মতো। আপনি হয়তো যাকে মনে করেছিলেন আপনার ‘আমিত্ব’-এর উপরে আঘাত!