যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে ২৫০০-র বেশি অপরাধীকে শনাক্তের দাবি দিল্লি পুলিশের, ১৫টি FIR
দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভস্থলে গত তিন দিনে ২,৫০০-র বেশি অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রের দাবি, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে হিংসার ঘটনার পরে নজরদারি বাড়াতে সেখানে ফেশিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS) বসানো হয়েছে। ওই প্রযুক্তির সাহায্যেই ২১ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে মিশে থাকা কিছু দুষ্কৃতী পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ছুরি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। সেই কারণেই নিরাপত্তা জোরদার করতে যন্তর মন্তরের প্রবেশ ও বেরোনোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চারটি FRS ইউনিট বসানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থা রিয়েল টাইমে কাজ করছে। কোনও ওয়ান্টেড অভিযুক্ত বা হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার সেখানে প্রবেশ করলে তার পরিচয় সঙ্গে সঙ্গেই যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।
২০ জুলাই বিরোধীদের ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির সময় হওয়া হিংসার তদন্তের সময় এই তথ্য সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫টি FIR দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
কর্তব্য পথ থানায় দায়ের হওয়া একটি FIR-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১০৯(১) অনুযায়ী খুনের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। ঘটনাটি রেল ভবন ও সংসদ ভবনের আশপাশে সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পুলিশের দাবি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ধারা ১৬৩ জারি থাকার কথা বারবার মাইকে ঘোষণা করা হলেও বিক্ষোভকারীদের একাংশ সেখান থেকে সরে যাননি। বরং ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগোনোর জন্য উস্কানি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
FIR-এ আরও দাবি করা হয়েছে, পুলিশকর্মীদের ঘিরে পাথর, চটি-জুতো ছোড়া হয় এবং প্রাণঘাতী উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।
মোট ১৩টি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীর উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, বেআইনি জমায়েত, দাঙ্গা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং জনজীবন বিপন্ন করার মতো অভিযোগ।
এ দিকে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-কে আশ্বাস দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।