Aluminium Foil: পকেটে রাখা কার্ড থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি? খেলা ঘোরাবে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল! | Why People Are Wrapping Wallets in Aluminium Foil: Viral RFID Hack Explained
আজকাল কেনাকাটা সেরে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা বেশ সহজ। কিন্তু সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়েছে এক নতুন ভয়, পকেটে থাকা কার্ড থেকে না জানি কখন টাকা গায়েব হয়ে যায়! ইদানীং সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে এক আজব কাণ্ড। বহু মানুষ রান্নাঘরের অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল (Aluminium Foil) পেপার দিয়ে সাজিয়ে-গুছিয়ে মুড়ে রাখছেন নিজেদের মানিব্যাগ বা ক্রেডিট কার্ড। নেটিজেনদের দাবি, ঘুরে বেড়ানো ‘ডিজিটাল পকেটমারদের’ হাত থেকে টাকা বাঁচানোর এটাই নাকি সবচেয়ে সহজ ঘরোয়া টোটকা। কিন্তু সত্যি কি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়েই এই হাই-টেক চুরি আটকানো সম্ভব?
সহজ কথায় ব্যাপারটা একটু বুঝে নেওয়া যাক। আমাদের ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড কিংবা বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে ছোট একটা চিপ থাকে, যাকে বলা হয় আরএফআইডি (RFID) বা এনএফসি (NFC)। এই চিপের দৌলতে মেশিনে কার্ড না ছুঁইয়ে কেবল কাছে আনলেই টাকা কেটে নেওয়া যায়। অনেকের ভয়, ভিড়ের মধ্যে চোরেরা পকেটের কাছে স্ক্যানার এনে চুপিচুপি তথ্য বা টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। বিজ্ঞানের নিয়মে, অ্যালুমিনিয়াম হল এমন এক ধাতু যা যেকোনও রেডিও সিগন্যালকে আটকে দিতে পারে (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফ্যারাডে কেজ’ বলা হয়)। তাই মানিব্যাগ ফয়েল দিয়ে মুড়ে রাখলে স্ক্যানারটি কার্ডের সিগন্যাল চট করে ধরে উঠতে পারে না।
তবে শুনতে খুব বুদ্ধিমানের কাজ মনে হলেও, সত্যি বলতে রোজকার জীবনে এই ট্রিক কতটা কাজের, তা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায়। ফয়েল পেপারের সামান্য কোণও যদি খোলা থাকে, তবে সেখান দিয়েই সিগন্যাল গলে যেতে পারে। তাছাড়া প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, বাস্তব জীবনে এভাবে তথ্য চুরি করে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, কন্ট্যাক্টলেস চিপের সাহায্যে কোনওভাবেই আপনার সিক্রেট পিন (PIN) বা সিভিভি (CVV) নম্বর চুরি করা যায় না। উপরন্তু, প্রতিটা ব্যাংকেরই টাকা লেনদেনের নিজস্ব কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে।
তাই মানিব্যাগে ফয়েল পেঁচিয়ে খামোখা ঝক্কি বাড়াতে না চাইলে, আপনার যদি নিরাপত্তা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা হয়, তবে বাজারে তৈরি ‘আরএফআইডি ব্লকিং’ বিশেষ মানিব্যাগ বা ছোট কার্ড কভার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফয়েল পেপার বা দামি মানিব্যাগের চেয়েও বড় সুরক্ষা হলো নিজের সচেতনতা। ফোনে ব্যাংকের মেসেজ অ্যালার্ট চালু রাখা, প্রতিনিয়ত স্টেটমেন্ট চেক করা আর অপরিচিত কাউকে গোপন তথ্য না দেওয়া- এই গুলো মেনে চললেই নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।