বিশ্বনাথন আনন্দের নতুন ইনিংস, প্রথম ভারতীয় হিসেবে ফিডের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট
৬৪ খোপের রাজকীয় লড়াইয়ে তিনি আগেই বিশ্বজয় করেছেন। তাঁর হাত ধরেই বিশ্ব দাবার মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল ভারত। এবার বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand ) রচনা…

৬৪ খোপের রাজকীয় লড়াইয়ে তিনি আগেই বিশ্বজয় করেছেন। তাঁর হাত ধরেই বিশ্ব দাবার মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল ভারত। এবার বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand ) রচনা করলেন এক নতুন ইতিহাস। প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিশ্ব দাবা সংস্থার (ফিডে) প্রেসিডেন্টের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন ভারতের এই কিংবদন্তি দাবাড়ু।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার জেরে ফিডে-র তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আরকাদি দোরকোভিচ শুক্রবার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই ফিডে-র সনদের ১৯.২ ধারা অনুযায়ী বর্তমান ডেপুটি প্রেসিডেন্ট আনন্দের হাতে বিশ্ব দাবা পরিচালনার রাশ তুলে দেওয়া হয়। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফিডে-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে পর্যন্ত দাবার বিশ্ব নিয়ামক সংস্থার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীন থাকবেন তিনি।
আনন্দের এই মসনদ আরোহণ ভারতীয় দাবার জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। যে মানুষটি নিজের মগজাস্ত্রে ভর করে ভারতের ঘরে একাধিকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব এনে দিয়েছেন, তিনি এবার প্রশাসক হিসেবে দাবার সর্বোচ্চ আসনে। গত কয়েক বছরে প্রজ্ঞানন্দ, গুকেশদের মতো একঝাঁক তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টারের উত্থানে ভারতীয় দাবা এক সুবর্ণ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর ঠিক এই সময়েই ফিডের শীর্ষ পদে আনন্দের মতো এক মহীরুহের বসাটা দেশের দাবার জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ হতে চলেছে।
গোটা দেশের ক্রীড়ামহলের নজর এখন সেদিকেই প্রশাসক হিসেবে ভারতীয় দাবার ঠিক কী কী উন্নতি করতে পারেন তিনি? বিশেষজ্ঞদের মতে, আনন্দের এই নতুন ভূমিকায় ভারতের প্রভূত লাভ হতে চলেছে। দেশের মাটিতে আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক মানের মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজন, তরুণ প্রতিভাদের জন্য উন্নততর পরিকাঠামো তৈরি এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় দাবাড়ুদের আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আনন্দ যে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বোর্ডের লড়াইয়ে তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা, এবার দাবার প্রশাসনিক বোর্ডেও ভারতের তেরঙ্গা ওড়াতে প্রস্তুত মাস্টারমাইন্ড।
