Mobile Phone Bad Effects: বাথরুমে মোবাইল নিয়ে যান? তাই কি ঘনঘন শরীর খারাপ হচ্ছে আপনার? | Health risks of using mobile phone in bathroom bacteria and infections - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mobile Phone Bad Effects: বাথরুমে মোবাইল নিয়ে যান? তাই কি ঘনঘন শরীর খারাপ হচ্ছে আপনার? | Health risks of using mobile phone in bathroom bacteria and infections

Spread the love

দীপেন্দু পাল

মোবাইল ফোন নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার বদ-অভ্যাস রয়েছে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা টয়লেট সিটে হাতে ফোন নিয়ে বসে থাকেন? তাহলে কিন্তু আপনার গুরুতর শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা! সাম্প্রতিক একাধিক বড় মাপের সমীক্ষায় শৌচাগারে মোবাইল নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ বারণ করা হচ্ছে। কারণ, বাথরুমেরে জল, কমোডের ফ্লাশ থেকে মোবাইলের স্ক্রিনে ও গায়ে এমন সব মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া এসে আটকে যাচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ওইসব ব্যাকটেরিয়া পেট খারাপ, জ্বর, চামড়ার রোগ, ইনফেকশন এমনকি প্রাণহানিরও কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের।

আধুনিক সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের ব্যক্তিগত সময়কেও গিলে খাচ্ছে! মোবাইল এখন আর শুধু ফোন করার কাজে লাগে না। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা নানা কাজে ফোনটি-কে কাছ ছাড়া করি না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন আমাদের হাতে থাকে। খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময় – সবসময় ফোন আমাদের আশেপাশে থাকে। এমনকী অনেকে তো এখন বাথরুমেও ফোন নিয়ে যান। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। আর সেটা যে কী মারাত্মক সেটাই এবার উঠে এল এক বড় মাপের সমীক্ষায়। ভারত,ব্রিটেন, আমেরিকা, সহ ২৪টি দেশের প্রাপ্ত বয়স্ক মোবাইল ফোন ইউজারদের নিয়ে করা এই সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে।

বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়া কতটা ক্ষতিকর? সমীক্ষা বলছে,

৫৭% প্রাপ্তবয়স্ক বাথরুমে ফোন নিয়ে যান

ফ্লাশ করলে কয়েক কোটি ব্যাকটেরিয়া ও নোংরা ড্রপলেট ছড়ায়

মাত্র ৮ সেকেন্ডের ফ্লাশে ৫ ফুট দূর পর্যন্ত নোংরা ওড়ে

দরজার নব, মেঝে, বেসিন ও ফোনে আটকে যায় ওই সব ‘সুপার-বাগ’

ই-কোলি বা সালমোনেলার মতো সুপার বাগ খাবারকে মারাত্মক দূষিত করে

ওই খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বদহজমের সম্ভাবনা বাড়ে

মাত্র ৮% বাথরুম থেকে ফিরে ফোন পরিষ্কার করেন

ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা বলছেন, ফ্লাশের পরে হাত, মেঝে, বাথরুমের সর্বত্র ছোট ছোট টুকরোতে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে জল দিয়ে হাত ধুলে সেই দূষিত পদার্থ যায় না। তাই চিকিসকেরা বাথরুমে গেলেই সাবান দিয়ে হাত ধুতে বলেন। কিন্তু হাত বা মেঝে সাবান দিয়ে ধুলেও বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে মাত্র ৮% প্রাপ্তবয়স্ক মোবাইল ফোনটিকে মোছেন। এক্ষেত্রে গবেষকরা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া টিস্যু ব্যবহার মোবাইলটি মোছার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ, ইকোলি বা স্যালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে পেটের। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরের ভিতরে ঢুকে আসা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া খাবারে মিশে যায়। সেই খাবার খেলে মারাত্মক সব রোগ হতে পারে।

গবেষণা আরও দেখাচ্ছে, কীভাবে নোংরা হাতে মোবাইল ধরলে সেই ধুলো-ময়লা মোবাইলের স্ক্রিনে, গায়ে আটকে থাকে। একজন ব্যক্তি বাথরুমে ঢোকার আগে ও পরে তাঁর মোবাইলের গায়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া ও মাইক্রোবস জমে যায়। যা সহজে উঠতে চায় না। বিশেষত অফিস,পাবলিক টয়লেট বা হাসপাতালের টয়লেটে এই সংক্রমণের আশঙ্কা দশ গুন বেশি। যাঁদের ইমিউন সিস্টেম ভাল নয়, তাঁরা অবিলম্বে রোগে কঠিন আক্রান্ত হতে পারেন। মাইক্রো কক্কি ও স্ট্যাফাইলি-কক্কি-র মতো ব্যাকটেরিয়া মাউসের ত্বকে আটকে থাকতে চায়। সেক্ষেত্রে চর্মরোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে শুধু তো বাথরুম নয়, আধুনিক চিকিতসকরা বলছেন, বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকলে করোনা কালে যেভাবে জামা কাপড় অন্যত্র ছেড়ে বেডরুমে ঢুকতেন, সেই পন্থাই সবচেয়ে সুরক্ষিত। সঙ্গে ফোনটিকেও একটি অ্যান্টি-সেপটিক টিস্যু দিয়ে মুছে ব্যবহার করুন। আর শিশুদের হাতে তো নোংরা ফোন দেবেনই না। কারণ, বাচ্চাদের ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *