‘১০ ওয়াটের বাল্ব, এক্সপায়েরি ডেট, গেঞ্জি-অন্তর্বাস’, মমতা-তৃণমূলের সভা থেকে আর কী কী বলা হল..
ভেঙে ছত্রখান তৃণমূল। একদিকে মেয়ো রোডে বিদ্রোহী ঋত শিবির, অন্যদিকে বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে কালীঘাট তৃণমূল। একইসঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদেরও দিল্লিতে চলল একুশে স্মরণ। সব মিলিয়ে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ে এক বেনজির ছবি দেখল বাংলা। একুশের সভায় তৃণমূলকেই বিঁধছে তৃণমূল। কালীঘাট তৃণমূল থেকে ঋত-তৃণমূলকে তোপের পর তোপ। ভিড়ের টক্কর নিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলকে কটাক্ষ অভিষেকের। তীব্র কটাক্ষ কুণাল ঘোষেরও। ছেড়ে কথা বললেন না কল্যাণ থেকে শোভনদেব, আজকের উপসানারাও।
একুশের মঞ্চ থেকে কুণাল বলেন, “ওখানে ফাঁকা চেয়ার, বিজেপিকে ফোন করছে লোক দাও, লোক দাও। যত জালি ধান্দাবাজ বেইমান, তৃণমূলের খেয়ে, তৃণমূলের পড়ে, তৃণমূলের প্রতীকে জিতে যাঁরা ধান্দাবাজি করতে গিয়েছেন বাংলার মানুষ একটাকেও ক্ষমা করবে না।” কুণালের আরও সংযোজন, “আমাদের নেত্রী একজন, বাকি আমরা সৈনিক। তৃণমূলের দিকে যদি কেউ চোখ তুলে তাকায় তাহলে মনে রাখবেন মমতাদি আমাদের দল, আমাদের প্রতীক। বাকি কোনও গদ্দারের কোনও জায়গা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দিলে গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া ছাড়া যাদের কিছু নেই তাঁরা এসেছে বড়বড় কথা বলতে।”
তোপ দাগতে ছাড়েননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “এক দেশ, এক ভোট চালু হলে ২০২৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচন হবে তখন বিধানসভা নির্বাচনও করতে হবে। ডেট অফ এক্সপায়েরি ২০২৯।”
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় সুর চড়ান মমতা। ঋত শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষবাণ শানিয়ে বলেন, “নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান।” দলের প্রতীক বিতর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, “দরকারে সুুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আমি ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট, আইনত আমাদের সিম্বল কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে, যেভাবে গায়ের জোরে ভোট করেছে। আর যদি কাড়ো তাহলে মনে রাখবে তোমাদের সবটা কেড়ে নেব। অভিষেকের বিরুদ্ধে চারশো কেস হয়েছে। কিন্তু কোনও কেসে প্রমাণ দিতে পারবে না।” সিজেপিকে সমর্থনের কথাও শোনা যায় মমতার মুখে। দিল্লির আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, “দরকার হলে ককরোচের প্রোগ্রামে আমি নিজেও যাব। কারণ আমাদের সাপোর্ট প্রথম থেকেই ছিল, আছে, থাকবে।”
ঋত শিবিরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, “৫ ওয়ার্ট ১০ ওয়ার্টের বাল্ব সে এখন ভাবছে আমি হ্যালোজেন হয়ে গিয়েছি। আমি নেত্রীকে অনুরোধ করব যাঁরা গিয়েছে তাঁদের একটাকেও দয়া করে আগামী দিনে ফেরত নেবেন না।” এরপরেই কার্যত হুঙ্কারের সুরে তাঁর সংযোজন, “একদিকে ইডি, একদিকে সিবিআই, একদিকে ইনকাম ট্যাক্স, একদিকে সিআইডি, একদিকে এসটিএফ, গলা যদি কেটে দেন তাহলে যেদিন দেহত্যাগ করব সেদিন মৃতদেহটা শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার আগে যদি কান পেতে শোনেন তাহলে সেই দেহ থেকে জয় বাংলা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ বের হবে।”
মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে। কার্যত হুঙ্কারের সুরে বলেন, “যখন যখন মায়ের উপর, মাটির উপর আঘাত আসবে তখন মানুষেরাই রুখে দাঁড়াবে।”





