VB-G RAM G প্রকল্পে বড় ঘোষণা, ৩০০ টাকা মজুরিতে ২৭.২ কোটি কর্মদিবসের লক্ষ্য বাংলার
কলকাতা: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং গ্রামের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন,…
কলকাতা: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং গ্রামের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’ (VB-G RAM G)-এর আওতায় চলতি অর্থবর্ষের বাকি নয় মাসে ২৭.২ কোটি কর্মদিবস (Person-days) তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য।
সোমবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বাজেট পেশ করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
১ জুলাই থেকে চালু ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প
মন্ত্রী জানান, ১ জুলাই থেকে রাজ্যে চালু হয়েছে ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প। এই প্রকল্পে প্রতিদিনের ন্যূনতম মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।
কেন্দ্রের বরাদ্দ ৮,৫০৮ কোটি টাকা
মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র সরকার অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ৮,৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
প্রকল্পটি ৬০:৪০ অনুপাতে পরিচালিত হবে।
• ৬০ শতাংশ অর্থ দেবে কেন্দ্র।
• ৪০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার।
চলতি বছরে ১৪,১৮০ কোটি টাকার বরাদ্দ
রাজ্য বাজেটে চলতি অর্থবর্ষে এই কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য ১৪,১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯,৮২৩.৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে
• কেন্দ্রের অংশ: ১৪,১৫৯.৮ কোটি টাকা
• রাজ্যের অংশ: ৫,৬৬৩.৯ কোটি টাকা
১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে হবে
নতুন আইনের আওতায় গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ডে নাম থাকা পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে অদক্ষ শারীরিক শ্রমের কাজের আবেদন করতে পারবেন।
নিয়ম অনুযায়ী
• ১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে হবে।
• নির্ধারিত সময়ে কাজ না পেলে বেকার ভাতা (Unemployment Allowance) দেওয়া হবে।
• কাজ করার পর মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি না মিললে ক্ষতিপূরণও পাবেন শ্রমিকরা।
পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিধানসভায় মন্ত্রী আরও জানান, পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে নতুন বিল আনার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত আইনে পঞ্চায়েত প্রধান (প্রধান) আর সরকারি নথিতে স্বাক্ষরকারী কর্তৃপক্ষ থাকবেন না। পরিবর্তে, সরকারি আধিকারিকদের হাতে সেই দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।এই পরিবর্তনের লক্ষ্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো বলে সরকারের দাবি।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনার লক্ষ্য
রাজ্য সরকারের মতে, ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের হাতে বেশি অর্থ পৌঁছাবে, ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আসবে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা