ভালোবাসা, না শুধু অভ্যাস? কী ভাবে বুঝবেন প্রেম আর ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট আলাদা?
কী এই ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই কারও না কারও সঙ্গে আমাদের ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হয়। তিনি বাবা-মা হোন বা বন্ধু। আমরা প্রত্যেকেই জানি, এই সম্পর্কগুলিই আমাদের কাছে নিরাপত্তার আশ্রয়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন সেই অ্যাটাচমেন্ট ভালোবাসার জায়গা থেকে নয়, ভয় থেকে তৈরি হয়। যেমন, কাউকে হারানোর ভয়। একা হয়ে যাওয়ার ভয়। অথবা মানুষটিকে ছাড়া বাঁচতে পারব না, এমন বিশ্বাস। এই অবস্থাকেই অনেক সময় ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট বলা হয়।
কী ভাবে তৈরি হয় এই অ্যাটাচমেন্ট?
একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটাতে কাটাতে, একই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, একই মানুষকে ঘিরে নিজের জীবন গড়ে তুললে তৈরি হয় ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট। তার পর ধীরে ধীরে সেই মানুষটাই হয়ে ওঠেন আপনার স্বস্তির জায়গা। তাই সম্পর্ক ভালো না চললেও বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যায়। অনেকেই খারাপ সম্পর্কেও বছরের পর বছর থেকে যান। কারণ ভালোবাসা নয়, তাঁরা আটকে থাকেন অভ্যাসে।
কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন এটা অ্যাটাচমেন্ট?
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি লক্ষণের কথা বলছেন—
-
সঙ্গী ছাড়া নিজের অস্তিত্বই অর্থহীন মনে হওয়া
-
সারাক্ষণ তাঁকে নিয়েই ভাবা
-
ফোন না ধরলেই ভয় বা উদ্বেগ তৈরি হওয়া
-
সম্পর্ক বাঁচাতে নিজের ইচ্ছা, সম্মান বা মানসিক শান্তি বিসর্জন দেওয়া
-
সম্পর্ক খারাপ হলেও ছেড়ে বেরোতে না পারা
ভালোবাসার লক্ষণ কী?
ভালোবাসায় থাকে ভরসা, থাকে সম্মান, থাকে স্বাধীনতা। সেখানে নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযোগিতা থাকে। সঙ্গী নিজের মতো সময় কাটালে অস্বস্তি হয় না। বরং দু’জনেই একে অন্যের স্বপ্ন, ব্যক্তিত্ব আর সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন।
সম্পর্ক সুস্থ রাখতে কী দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো নিরাপত্তা, বিশ্বাস আর সম্মান। দু’জনেরই নিজের আলাদা আলাদা জীবন থাকবে। নিজের বন্ধু থাকবে। নিজের শখ থাকবে। তাই চিন্তা না করে, একে অন্যকে বুঝলেই সম্পর্কও সুন্দর থাকবে।