টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন অসম, বহু বাড়িতে জল ঢুকে চরম দুর্ভোগ
গুয়াহাটি: টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে অসমের একাধিক এলাকা। রবিবার ভোরের প্রবল বর্ষণের জেরে চরাইদেও জেলার সোনারি, শিবসাগর এবং জোরহাটের বিভিন্ন অংশে হাঁটু…
গুয়াহাটি: টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে অসমের একাধিক এলাকা। রবিবার ভোরের প্রবল বর্ষণের জেরে চরাইদেও জেলার সোনারি, শিবসাগর এবং জোরহাটের বিভিন্ন অংশে হাঁটু সমান জল জমে যায়। বহু বাড়িতে জল ঢুকে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন।
সোনারিতে বাড়িতে ঢুকল জল
চরাইদেও জেলার সোনারিতে ধোদর আলি রোড-সহ একাধিক অভ্যন্তরীণ রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু সমান জল জমে ছিল। জল ঢুকে পড়ে বহু বাড়িতে।
স্থানীয় বাসিন্দা উষা দাস বলেন, গত ৩৫ বছরে তিনি এমন জলাবদ্ধতা দেখেননি। তাঁর কথায়, “বাড়ির আসবাবপত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, সবই জলে ভিজে গেছে। সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা থাকলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত।”
নিকাশি ব্যবস্থার ব্যর্থতার অভিযোগ
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি হলেই জল বেরোনোর কোনও ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা কার্যত নদীতে পরিণত হচ্ছে। ধোদর আলি রোডের এক ব্যবসায়ী কৃষ্ণ বরা বলেন, “এক পশলা ভারী বৃষ্টিতেই রাস্তায় জল জমে যায়। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই সমস্যা আরও বাড়বে।”
এই পরিস্থিতির মধ্যে সোনারি মিউনিসিপ্যাল বোর্ডে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অচলাবস্থাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর ফলে বহু নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
শিবসাগরের ১৪টি ওয়ার্ডই জলমগ্ন
ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে শিবসাগর শহরেও। জানা গিয়েছে, পুরসভার সবকটি ১৪টি ওয়ার্ডেই হাঁটু সমান জল জমে যায়।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে
• ডলমুখ চারিআলি
• মুক্তিনাথ চারিআলি
• মেলাচাকার
• ফুকান নগর
• অমলাপট্টি
• বিএজি রোড
• এইচসিবি রোড
• ওএনজিসি কলোনি
• বাবুপট্টি
• বোর্ডিং রোড
শিবসাগর পুরসভার চেয়ারপার্সন স্মৃতি রেখা দত্ত জানান, জল দ্রুত নামানোর জন্য পুরসভার কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জল সরানোর কাজ চলছে।
জোরহাটেও দুর্ভোগ
জোরহাটের একাধিক এলাকায় নিকাশি নালা উপচে পড়ায় জল ঢুকে পড়ে রাস্তাঘাট ও বসতিতে।
জোরহাট মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের চেয়ারপার্সন লখিমী খারঘরিয়া জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ত্রাণ ও জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় জায়গায় পাম্প বসিয়ে জল সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নাগরিকদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান জরুরি
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যা দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক জল সরানো নয়, আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা, ড্রেন সংস্কার এবং জল নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই ভবিষ্যতে এই ধরনের জলাবদ্ধতা এড়ানো সম্ভব হবে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা