আর ছিঁড়বে না বা নষ্ট হবে না কাগজের নোট! প্লাস্টিকের মুদ্রায় উপকৃত হবেন লাখ লাখ মানুষ - 24 Ghanta Bangla News
Home

আর ছিঁড়বে না বা নষ্ট হবে না কাগজের নোট! প্লাস্টিকের মুদ্রায় উপকৃত হবেন লাখ লাখ মানুষ

Spread the love

Plastic Currency: রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রচলিত কাগজের নোটের পরিবর্তে পলিমার (প্লাস্টিক) নোট…

Plastic Currency: রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রচলিত কাগজের নোটের পরিবর্তে পলিমার (প্লাস্টিক) নোট চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে, আরবিআই-এর মুদ্রা মুদ্রণ বিভাগ বিশেষ পলিমার সাবস্ট্রেট (প্লাস্টিকের শিট) সরবরাহের জন্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে আগ্রহপত্র (EOI) আহ্বান করেছে। এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় মুদ্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

পলিমার ব্যাংকনোট কী?
পলিমার ব্যাংকনোট এক বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকের শিট বা পাত দিয়ে তৈরি করা হয়। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় এগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী ও টেকসই। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যেই পলিমার নোট চালু রয়েছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, এ ধরনের নোট দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায় এবং সহজে নষ্ট হয় না।

প্লাস্টিকের নোট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোটের প্রধান সুবিধা হলো এগুলোর স্থায়িত্ব। কাগজের নোটের তুলনায় এগুলো প্রায় আড়াই থেকে চার গুণ বেশি সময় টিকে থাকে। এছাড়া জল, আর্দ্রতা, ধুলো ও ময়লার কারণে এগুলোর সহজে কোনো ক্ষতি হয় না। বারবার ব্যবহারের পরেও দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর গুণমান অটুট থাকে।

পলিমার নোটে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও যুক্ত করা সম্ভব, যার ফলে এগুলোর নকল তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ কাগজের নোটের পরিবর্তে ধীরে ধীরে পলিমার নোট চালু করেছে।

আরবিআই (RBI)-এর পরিকল্পনাটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে?

আরবিআই (RBI) বর্তমানে পলিমার সাবস্ট্রেট সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। আবেদনকারী কোম্পানিগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য পলিমার ব্যাংকনোট তৈরির পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা আবশ্যক।

পুরো প্রক্রিয়াটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোন মূল্যের ব্যাংকনোটটি সর্বপ্রথম পলিমারে তৈরি করা হবে কিংবা কবে নাগাদ সেগুলো বাজারে ছাড়া হবে, সে বিষয়ে আরবিআই এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বর্তমান নোটগুলো কি তুলে নেওয়া হবে?
এই পরিকল্পনার অর্থ এই নয় যে, বর্তমান কাগজের নোটগুলো অবিলম্বে তুলে নেওয়া হবে। আরবিআই (RBI)-এর পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সম্ভবত শুরুতে সীমিত সংখ্যক পলিমার নোট ছাড়া হবে এবং কিছু সময়ের জন্য উভয় ধরনের নোটই একই সঙ্গে প্রচলনে থাকবে।

পূর্ববর্তী পরীক্ষামূলক কার্যক্রম
উল্লেখ্য যে, ভারত ২০১৩ সালে ১০ টাকার পলিমার নোটের একটি সীমিত পরিসরের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়েছিল; তবে সেই সময় পরিকল্পনাটি আর এগোয়নি। বর্তমানে মনে হচ্ছে, আরবিআই (RBI) আবারও এই প্রযুক্তি গ্রহণের পথে সক্রিয়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে। বাস্তবায়িত হলে, এই উদ্যোগটি ভারতীয় মুদ্রাকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক করে তুলতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *