৩ মাসে ৫ শাহী সফর! শুধুই রুটিন না বাংলায় বাস্তব পরিবর্তনের অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর?
কলকাতা: তিনদিনের বঙ্গ সফরে এই মুহূর্তে কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। উত্তরবঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে কলকাতায় আমূল প্রজেক্টের উদ্বোধন প্রত্যেক…
কলকাতা: তিনদিনের বঙ্গ সফরে এই মুহূর্তে কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। উত্তরবঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে কলকাতায় আমূল প্রজেক্টের উদ্বোধন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই শুধু মাত্র রুটিন নয় প্রকাশ পেয়েছে বাংলায় আসল পরিবর্তনের অঙ্গীকার। এমনটাই মনে করছেন বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
নির্বাচনের পর মাত্র তিন মাসে এটি তাঁর চতুর্থ বা পঞ্চম সফর। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও তিনি বারবার বাংলায় আসছেন, আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা করছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। রাজ্য বিজেপির নেতারা বলছেন, এটি শুধু সফর নয় বাংলায় সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ। নির্বাচনের আগে অমিত শাহ ২০ দিনেরও বেশি সময় বাংলায় ক্যাম্প করে ছিলেন।
আরও দেখুনঃ
‘সোনার বাংলা’র স্লোগান তুলে তিনি ঘরে ঘরে গিয়েছিলেন। জয়ের পরও তাঁর এই সক্রিয়তা অস্বাভাবিক। বিরোধীরা এখন দুর্বল, বিজেপি রাজ্যে প্রভাবশালী। তবুও দিল্লির এয়ার-কন্ডিশনড ঘরে বসে থাকার পরিবর্তে তিনি বারবার বাংলায় ছুটে আসছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের একাংশ বলছেন, এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বাংলার আমূল পরিবর্তনের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের প্রমাণ।
গত দু’মাসে বাংলায় বড় বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে নতুন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি তৎপরতা রোধে বিএসএফ-কে এক হাজার একরেরও বেশি জমি দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ
সীমান্ত ফেন্সিংয়ের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।অমিত শাহ এবারের সফরে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা করবেন। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সন্ত্রাস, মাদক, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে কঠোর নির্দেশ দিতে পারেন। রাজ্য বিজেপি নেতারা বলছেন, শাহের উপস্থিতি প্রশাসনকে নতুন করে উদ্দীপিত করছে। যেখানে একসময় তৃণমূলের দাপটে প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছিল, সেখানে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
বিরোধীরা অবশ্য এই সফরকে ‘নির্বাচনী মেশিন’ বলে কটাক্ষ করছে। তাঁরা বলছেন, বিজেপি ৩৬৫ দিন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামে গ্রামে শাখা খুলছে, কর্মীরা সক্রিয় হয়েছে। অমিত শাহের বারবার আসা এই সাংগঠনিক শক্তিকে আরও মজবুত করছে।
আরও দেখুনঃ
রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাড়ছে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। শাহের সফরে আলোচনায় উঠবে সীমান্ত নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ রোধে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।