Sisir Adhikari: ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম…গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমা চাইছি: শিশির – Bengali News | ‘It was my mistake to join TMC’, says former MP Sisir Adhikari
পটাশপুর: দুই দশকের বেশি তৃণমূল করেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে রাজ্যের শাসকদলের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তৃণমূল করার জন্য এবার সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে বিজেপির সভায় রীতিমতো ঝুঁকে পড়ে তিনি বললেন, “গলবস্ত্র হয়ে এই মাটি ছুঁয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। ক্ষমা করে দেবেন। একটা ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম।” শিশির অধিকারীর এই ক্ষমা চাওয়া নিয়ে অবশ্য কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
চুরাশি বছরের শিশিরকে বর্তমানে বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায় না। তবে গতকাল পটাশপুরে বিজেপির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানেই বক্তব্য রাখার সময় গলার উত্তরীয় খুলে মানুষের কাছে ক্ষমা চান। হাত জোড় করে, নিচু হয়ে মঞ্চ ছুঁয়ে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় তাঁকে। তৃণমূলের সব কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি তিনি জানেন বলে মন্তব্য করে বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, “ওই কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি আমি ঘৃণা করি। যেহেতু পার্টিটা করতাম, তাই আমি বলছি না। তাঁকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আমরাই করেছিলাম। গলবস্ত্র হয়ে এই মাটি ছুঁয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। ক্ষমা করে দেবেন। একটা ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম। সেই ভুল পথে আপনাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাই। আপনাদের কিছু করতে পারলাম না। চোখ থেকে ঠসঠস করে জল পড়ে যায়। ছাব্বিশ সালে সরকারটা এনে দেন। আমি অনেকদিন বাঁচব। হড়হড় করে টেনে নিয়ে আনব। কিছু জানেন না, চুরিটা ভাল করে জানেন।”
ফের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণ সন্তান। আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি ভুল করেছিলাম। আপনাদের সেই পথে চালিত করেছিলাম। আপনারা ক্ষমা করবেন। আপনারা ক্ষমা করে ছাব্বিশ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আনুন। অমিত শাহজিকে ভাল করে জানি। আমি শপথ করে বলছি, আমাদের এলাকার বহু উন্নয়ন হবে। সেই উন্নয়ন আপনারা কখনও দেখেননি।”
২০০০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন শিশির অধিকারী। একসময় পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর মেজোপুত্র শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁরও দূরত্ব বাড়ে। অবশেষে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শিশির ও তাঁর পরিবার।
শিশিরের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। আপনাকে কোন পরিস্থিতিতে কাদের আপত্তি সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, সেটা ভুলে গিয়ে শিশিরদার মতো বর্ষীয়ান মানুষের সস্তার রাজনীতির করাটা ঠিক হচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যা পেয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদটাই থাক। বাকি কোন বাধ্যবাধকতায় কী করতে হচ্ছে, তার জন্য এই নাটুকে সংলাপ বন্ধ করাই ভাল।”
শিশির অধিকারীর মন্তব্য নিয়ে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, “শিশিরবাবু রাজনৈতিকভাবে প্রাজ্ঞ। পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তিনি প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতো রাজনৈতিক বোদ্ধা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন খুবই কম রয়েছে। তিনি ঠিক কথাই বলেছেন। তিনি দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন।”