‘নেতা-নেত্রীদের ভুলেই…’, তৃণমূলের ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্যা করলেন মমতার মামা
বাড়ির সামনে অনুষ্ঠান চলছে। উপস্থিত রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে সেই অনুষ্ঠানই দেখছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামা অনিল মুখোপাধ্যায়। তাঁকে চোখে পড়তেই এগিয়ে গেলেন ধ্রুব। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন। শনিবার বীরভূমের রামপুরহাটের এই ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের মুখে মুখে ঘুরছে। আপ্লুত অনিলও। পরে সাংবাদিকদের ভাগ্নির দলের পরাজয়ের কারণও অকপটে ব্যাখ্যা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘নেতা-নেত্রীদের ভুলেই হার।’
রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের একটি স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। সেখানেই যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। স্কুলের ঠিক উল্টোদিকেই অনিল মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। অনুষ্ঠান চলাকালীন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। স্কুলে যাননি, তবে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন সবকিছু।
অনুষ্ঠান শেষে স্কুল থেকে বেরোতেই অনিলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন ধ্রুব। এক মুহূর্ত দেরি না করে এগিয়ে যান তিনি। সবার সামনেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। রাজনৈতিক পরিচয় তখন পিছনের সারিতে। সামনে তখন একজন বয়ঃজৈষ্ঠ মানুষ, যাঁকে সম্মান জানানো বাঙালির সংস্কারের অংশ।
প্রণামের পরে অনিলের হাত দু’টো ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন ধ্রুব। বিদায় নেওয়ার আগে বলে যান, ‘যে কোনও প্রয়োজনে নির্দ্বিধায় ফোন করবেন।’ সব সময়ে পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। এমন আচরণে আপ্লুত অনিল। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগল। খুব ভালো ব্যবহার, মানুষ হিসেবেও খুব ভালো।’
দীর্ঘ ১৫ বছর পরে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন ভাগ্নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। তবে এই সব নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন অনিল। সরাসরি বলে দিলেন, ‘নেতা-নেত্রীদের ভুলের জন্যই মানুষ ভোট দেয়নি। তাই তৃণমূল হেরেছে।’ একই সঙ্গে বিজেপিকে পরোক্ষে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি, ‘পাঁচ বছর রাজ্য চালাক। ভালো ভাবে চালাতে পারলে এরাই ক্ষমতায় থাকবে।’