সমুদ্রে নৌ-আধিপত্য! ভারতে পৌঁছাল আরও একটি এমএইচ-৬০আর 'রোমিও' সি-হক - 24 Ghanta Bangla News
Home

সমুদ্রে নৌ-আধিপত্য! ভারতে পৌঁছাল আরও একটি এমএইচ-৬০আর ‘রোমিও’ সি-হক

Spread the love

Indian Navy: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিন ও পাকিস্তানের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার লক্ষ্যে ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমাগত নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে,…

Indian Navy: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিন ও পাকিস্তানের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার লক্ষ্যে ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমাগত নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, গত সপ্তাহে কোচি-তে এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংস্থা লকহিড মার্টিন-এর তৈরি আরও একটি অত্যাধুনিক এমএইচ-৬০আর (MH-60R) ‘রোমিও’ সি-হক হেলিকপ্টার। চলতি সপ্তাহে আরও দুটি হেলিকপ্টার ভারতে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই তিনটি নতুন হেলিকপ্টার যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর এই ধরনের মারাত্মক হেলিকপ্টারের বহর বেড়ে ২১টিতে দাঁড়াবে।

চুক্তিতে কয়টি হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং কয়টি পাওয়া গিয়েছিল?
২০২০ সালে, ভারত মার্কিন সরকারের সঙ্গে ২৪টি MH-60R হেলিকপ্টার কেনার জন্য ২.৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা) মূল্যের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই সপ্তাহে দুটি হেলিকপ্টার আসার ফলে ভারত মোট ২১টি হেলিকপ্টার পেয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি সরাসরি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে মোতায়েন করা হয়েছে, তিনটি ভারতীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রাখা হয়েছে এবং বাকিগুলো ভারতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

বাকি তিনটি হেলিকপ্টারের সরবরাহ এই বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে। এছাড়া, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারত সম্প্রতি প্রায় ৭,৯৯৫ কোটি টাকার একটি ‘সাস্টেইনমেন্ট প্যাকেজ’ বা রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

MH-60R ‘রোমিও’ সি-হক (Seahawk)-কে কী বিশেষ করে তোলে?
‘রোমিও’ সি-হক-কে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী (multi-role) নৌ-হেলিকপ্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো হয়ে যাওয়া ‘সি-কিং’ (Sea King) হেলিকপ্টারগুলোর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—

সাবমেরিনের সবচেয়ে বড় শত্রু: এই হেলিকপ্টারটি সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার কাজে বিশেষভাবে পারদর্শী। এই কাজের জন্য এটি বিশেষ ‘ডিপিং সোনার’ (জলে নামানো সেন্সর) এবং ‘সোনোবয়’ (sonobuoy)-এর মতো যন্ত্রে সজ্জিত, যা জলের নিচের যেকোনো কার্যকলাপ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারে।

প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত: শত্রুর ওপর আক্রমণের জন্য এই হেলিকপ্টারটি হেলফায়ার (Hellfire) মিসাইল, এমকে-৫৪ (Mk-54) হালকা ওজনের টর্পেডো এবং নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম রকেট দিয়ে সজ্জিত। এটি দূর থেকেই শত্রুর জাহাজ ও সাবমেরিনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

যেকোনো আবহাওয়ায় ও রাতের বেলা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা: এটি অত্যন্ত উন্নতমানের APS-153(V) মাল্টি-মোড রাডার এবং নাইট-ভিশন বা ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর দ্বারা সজ্জিত। এর ফলে ঘন কুয়াশা, ভারী বৃষ্টিপাত কিংবা ঘুটঘুটে অন্ধকারেও এটি সমুদ্রে নজরদারি চালাতে এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালনার সক্ষমতা: ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী (যেমন—আইএনএস বিক্রান্ত) ছাড়াও, এই হেলিকপ্টারটি ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ডেক থেকেও অনায়াসে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম: আক্রমণ পরিচালনার পাশাপাশি, সমুদ্রে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, জরুরি চিকিৎসায় সহায়তা প্রদান এবং যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

ভারতের জন্য এই হেলিকপ্টারটি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনা সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজের অনুপ্রবেশ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ‘রোমিও’ হেলিকপ্টারগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করবে এবং সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে। নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধানদের মতে, সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই হেলিকপ্টারগুলো তাদের দুর্দান্ত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *