বাঁকড়ায় পুলিশি কড়াকড়ির মাঝেই জমায়েত বাতিল, পিছিয়ে গেলেন সিদ্দিকুল্লা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে অবস্থিত মসজিদে নমাজ পাঠ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক এবং…
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে অবস্থিত মসজিদে নমাজ পাঠ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।(Siddiqullah Chowdhury) ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতা বিমানবন্দরের মসজিদ চত্বরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তবে শেষ মুহূর্তে সেই কর্মসূচি হঠাৎ বাতিল করে দেন তিনি। ফলে শনিবার আর কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়নি।
এর আগে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury) ঘোষণা করেছিলেন যে, বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটের কাছে সকাল ১১টায় জমায়েত করা হবে। তাঁর অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে যেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলছিল, সেখানে হঠাৎ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য নমাজ পাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সমর্থকদের।
তবে নির্ধারিত দিনের (Siddiqullah Chowdhury) আগেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। শেষ পর্যন্ত সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী জানান, আপাতত কোনও জমায়েত বা আন্দোলনের কর্মসূচি হচ্ছে না। যদিও কর্মসূচি বাতিলের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনও কারণ প্রকাশ করেননি। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য জমায়েতকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। হাওড়ার বাঁকড়া মোড় এবং সংলগ্ন এলাকায় জারি করা হয় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই অবনতি না ঘটে, তার জন্য এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। সকাল থেকেই বাঁকড়া মোড়, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে পুলিশি নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং, টহলদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে অবস্থিত মসজিদে নমাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার কোনও নাগরিকের ধর্মপালনের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে তিনি একইসঙ্গে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংস্থাগুলির পরামর্শ ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সরকারের অবস্থান।
অন্যদিকে, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনও আপস করা যাবে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত এবং মসজিদে স্বাভাবিকভাবে নমাজ পাঠের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। সেই দাবিতেই তিনি প্রথমে আন্দোলনের ডাক দিলেও, শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।