Jagannath Temple Mahaprasad: পুরীর জগন্নাথ দেবের অন্যতম ভোগ ‘টঙ্কা তোরানি’, পেটের রোগ ও ডিহাইড্রেশন রুখতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন এভাবে
প্রবল গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ক্লান্তি দূর করতে এক অদ্ভুত অমৃত সুধা প্রদান করা হয়। ওড়িশার এই অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয়টির নাম হল ‘টঙ্কা তোরানি’, যা মহাপ্রভুর ছাপান্ন ভোগের অন্যতম একটি বিশেষ অঙ্গ। হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জগন্নাথধামে এই সুস্বাদু টক-ঝাল পানীয়টি রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে এবং তীব্র গরমে ভক্তদের তৃষ্ণা মেটাতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তৈরি হয়ে আসছে। Gemini AI
এই স্বর্গীয় পানীয় তৈরির মূল উপাদান কিন্তু আর কিছুই নয়, প্রতিদিন মহাপ্রভুর ভোগে যে অন্ন বা ভাত নিবেদন করা হয়, তা থেকেই কিছুটা অংশ সংগ্রহ করে এই রেসিপি তৈরি হয়। সেই সেদ্ধ ভাতকে পরিষ্কার জলের মধ্যে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা বা একদিন দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা দিয়ে একটি ঠান্ডা জায়গায় ভিজিয়ে রাখা হয়। ভাতের এই ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টঙ্কা তোরানির মূল ভিত্তি প্রস্তুত হয়, যার রন্ধনশৈলীতে আজও কোনও বদল আসেনি। Gemini AI
সাধারণত আমরা গরমকালে যে সমস্ত শরবত বা রিফ্রেশিং ড্রিংক পান করে থাকি, সেগুলির মতো এই পানীয়তে কিন্তু চিনি বা কোনও মিষ্টির নামগন্ধও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর স্বাদ সম্পূর্ণ অন্যরকম, যেখানে মূলত টক ও ঝাল স্বাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায় যা নিমেষে মুখের রুচি ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘ সময় ধরে জারিত হওয়ার কারণে এই পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক তৈরি হয়, যা তীব্র গরমে মানুষের হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সাহায্য করে। Gemini AI
বাড়িতে এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি তৈরি করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে এক কাপ সাধারণ সেদ্ধ ভাত, তিন টেবিল চামচ ভালো টক দই, এক ইঞ্চি মাপের আমআদা এবং সামান্য ভাজা জিরে গুঁড়ো। এর সঙ্গে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর জন্য লাগবে অন্তত দশটি তাজা লেবুপাতা, বারো থেকে পনেরোটি কারিপাতা, পাঁচটি কাঁচালঙ্কা, স্বাদমতো লবণ, পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং লেবুর রস। সুগন্ধের ম্যাজিক তৈরি করতে এই রেসিপিতে একই সঙ্গে পাতিলেবু এবং সুবাসিত কাগজিলেবু দুই ধরনের লেবুরই ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। Gemini AI
প্রস্তুতি পর্বের শুরুতে চব্বিশ ঘণ্টা ধরে ভিজিয়ে রাখা জারিত ভাত ও জল একসঙ্গে নিয়ে পরিষ্কার হাতে খুব ভালো করে চটকে মেখে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সেই চটকানো ভাতের মিশ্রণের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টক দই, অর্ধেক পাতিলেবুর রস এবং ভাজা জিরের গুঁড়ো দিয়ে চামচ দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে। এই অবস্থাতেই সুগন্ধী কাগজিলেবু পাতলা এবং গোল গোল ফালি করে কেটে সরাসরি ভাতের ওই তরল মিশ্রণের মধ্যে ভাসিয়ে দিতে হবে। Gemini AI
পানীয়টির আসল স্বাদ ও ঝাঁঝালো গন্ধ আনতে এবার একটি শিলনোড়া বা হামানদিস্তায় আমআদা, কাঁচালঙ্কা, তাজা লেবুপাতা এবং কারিপাতা একসঙ্গে নিয়ে হালকা করে থেঁতলে নিতে হবে। এই থেঁতলানো সুগন্ধী মশলার মিশ্রণটি ভাতের পাত্রে ঢেলে দিয়ে একহাতে পুরো মিশ্রণটি অনবরত চটকাতে হবে এবং অন্যহাতে প্রয়োজনমতো ঠান্ডা পানীয় জল ঢালতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ভাতের কোনও ডেলা বা চাকা জলের ভেতরে জমে না থাকে এবং সমস্ত উপাদান যেন জলের সঙ্গে একদম মসৃণভাবে মিশে যায়। Gemini AI
সম্পূর্ণ মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে চাইলে একটি সূক্ষ্ম ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নেওয়া যেতে পারে অথবা ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে ওড়িশার মাটির পাত্রে রেখেও পরিবেশন করা যায়। এই অসাধারণ পানীয়টি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং গ্রীষ্মের দিনে মানব শরীরকে ক্ষতিকারক টক্সিনমুক্ত করতে এবং ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি দূর করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এই পবিত্র পানীয়টি প্রথমে ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে তারপর পরিবারের সকলের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করুন। Gemini AI






