জগন্নাথদেবের ‘নির্মাল্য’ কেন এত পবিত্র? জানেন এই শুকনো মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য? - 24 Ghanta Bangla News
Home

জগন্নাথদেবের ‘নির্মাল্য’ কেন এত পবিত্র? জানেন এই শুকনো মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য?

Spread the love

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য সারা দেশে প্রসিদ্ধ। এই মহাপ্রসাদেরই একটি বিশেষ রূপ হল ‘নির্মাল্য’ বা ‘কৈবল্য’, যা ভক্তদের কাছে বিশেষ পরিচিত।

রথযাত্রার সময়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত মহাপ্রসাদের পাশাপাশি এই নির্মাল্যও বাড়িতে নিয়ে যান। অনেক ভক্তই বিশ্বাস করেন, এই প্রসাদ কখনও তার পবিত্রতা হারায় না।

জগন্নাথ দেবের মহাপ্রসাদ মূলত দুই ধরনের— শঙ্কুড়ি প্রসাদ। অর্থাৎ, সদ্য রান্না করা ভোগ। অন্যটি হলো মহাপ্রসাদ, যার মধ্যে পড়ে নির্মাল্য। কী ভাবে প্রস্তুত করা হয় নির্মাল্য?

মন্দিরের বিশাল রান্নাঘরে রান্না করা ভাত ভগবানকে নিবেদন করার পর যদি কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে মন্দির চত্বরের একটি বিশেষ স্থানে রোদে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া হয়। এই শুকনো ভাতই নির্মাল্য নামে পরিচিত।

কেন এই নির্মাল্য কেন এত প্রসিদ্ধ? স্কন্দ পুরাণ-সহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ভগবানের প্রতি নিবেদন করা অন্ন কখনও অপবিত্র হয় না। সেই কারণেই নির্মাল্যকে ‘কৈবল্য’ বলা হয়। ‘কৈবল্য’ শব্দের অর্থ মোক্ষ বা মুক্তি। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই প্রসাদ খেলে মুক্তিলাভ হয়।

এ ছাড়াও ভক্তদের বিশ্বাস, নির্মাল্য ঘরে রাখলে বাড়িতে শুভ শক্তি আসে। অনেকেই প্রতিদিন স্নান ও পুজোর পর এক দানা নির্মাল্য গ্রহণ করেন। ওডিশার বহু পরিবারে বিয়ের সময়ে নবদম্পতির হাতে নির্মাল্য দেওয়ার রীতিও রয়েছে।

নির্মাল্য সাধারণত লাল কাপড়ের ছোট থলিতে সংরক্ষণ করা হয়। এটি বাড়ির ঠাকুরঘর বা পরিচ্ছন্ন ও উঁচু স্থানে রেখে দেন ভক্তরা। তবে এই নির্মাল্য শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই পাওয়া যায়।

পুরীর ‘আনন্দ বাজার’ থেকে ভক্তরা এই নির্মাল্য সংগ্রহ করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এটি শুধু শুকনো মহাপ্রসাদ নয়, বরং জগন্নাথদেবের আশীর্বাদ।

তবে এই শুকনো প্রসাদ দেওয়ার আরও একটি কারণ হলো, সাধারণ মহাপ্রসাদ এক দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যায় না। কিন্তু নির্মাল্য সম্পূর্ণ রোদে শুকিয়ে তৈরি হয়। তাই এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

তাই দূর-দূরান্ত থেকে পুরীতে আসা ভক্তরা যাতে নিজেদের বাড়িতে জগন্নাথদেবের প্রসাদ নিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য এই শুকনো প্রসাদ তৈরি করা হয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *